নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: খাস জলপাইগুড়ি শহরে জমি মাফিয়াদের দাপট! ১১ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি জমি ও নিকাশি খাল বুজিয়ে বিক্রির চেষ্টা। খবর পেয়ে শনিবার শহরের আদরপাড়া এলাকায় হানা দেন পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি জেসিবি দিয়ে ভরাট করা নিকাশি খাল থেকে মাটি, সুড়কি তোলার ব্যবস্থা করেন। ওই এলাকায় সরকারি জমিতে খুঁটি পুঁতে প্লট করে বিক্রির চেষ্টা চলছিল। সরকারি জমি থেকে সমস্ত খুঁটি তুলে ফেলার নির্দেশ দেন ভাইস চেয়ারম্যান। সরকারি জমি দখল রুখতে সোমবার ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিককে তিনি চিঠি লিখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে এদিন ভাইস চেয়ারম্যানের হুঁশিয়ারিকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, শহরে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয় সরকারি জমিতে রয়েছে। খোঁজ করলে দেখা যাবে, ১১ নম্বর ওয়ার্ডেও যে বা যারা সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করছে, তারা তৃণমূলের ছত্রছায়ায় রয়েছে। যদিও এদিন ভাইস চেয়ারম্যান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি জমি কিংবা নিকাশি খাল ভরাট করে যে বা যারা বিক্রির চেষ্টা করছিল, তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে বলা হবে ভূমিদপ্তরকে।
কোথাও সরকারি জমি কিংবা নদী-খাল ভরাটের চেষ্টা হলে অভিযুক্তদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না, প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে বলে বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। এদিকে, একের পর এক সরকারি জমি দখলের অভিযোগ ঘিরে সরগরম জলপাইগুড়ি। শহরের উপকণ্ঠে পাহাড়পুরে আস্ত নদী চুরির অভিযোগ উঠেছে। জমি মাফিয়ারা সেখানে মাটি ফেলে ধরধরা নদী বুজিয়ে ফেলছে। ঘটনায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর অবশ্য তদন্ত শুরু করেছে। এরই মধ্যে জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া খড়িয়া পঞ্চায়েতের বিবেকানন্দপল্লিতে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে ব্লক প্রশাসন।
জলপাইগুড়ির আদরপাড়ার উপর দিয়ে একটি বড় নিকাশি খাল গিয়ে গদাধর ক্যানেলে মিশেছে। ওই নিকাশি খাল দিয়ে শহরের ১১, ১২, ১৩, ১৪ এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের জল বের হয়। কিন্তু কে বা কারা মাটি, সুড়কি ফেলে নিকাশি খালটি প্রায় ভরাট করে ফেলেছিল। একইভাবে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে জলের রিজার্ভারের কাছে এবং গদাধর ক্যানেল পাড়ে অনেকটা সরকারি জমি রয়েছে। ওইসব সরকারি জমিও প্লট করে বিক্রির জন্য খুঁটি পোঁতা হয়েছিল। এদিন ভাইস চেয়ারম্যানের নির্দেশে সরকারি জমিতে পোঁতা সমস্ত খুঁটি তুলে ফেলা হয়। তবে কে বা কারা ওই সরকারি জমি এবং নিকাশি খাল ভরাট করছিল তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি এলাকার বাসিন্দারা। - নিজস্ব চিত্র।