নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া জেলা পুলিসের তত্পরতায় প্রাণ বাঁচল অপহৃত দুই ব্যবসায়ীর। পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা ওই দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে সে রাজ্যেরই একদল দুষ্কৃতী। মুক্তিপণও দাবি করে। কিন্তু সেটা না মেলায় অযোধ্যার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে এসে দু’জনকে খুনের পরিকল্পনা করে তারা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় পুরুলিয়া জেলা পুলিস। খুন করার আগেই পুলিস পৌঁছে যায় ওই জঙ্গলে। সাক্ষাৎ যমদূতের মুখ থেকে দুই ব্যবসায়ীকে ফিরিয়ে আনেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার দুর্ধর্ষ দুষ্কৃতীকে। সোমবারের এই ঘটনা সামনে আসতেই তোলপাড় পড়েছে জেলাজুড়ে। পুলিসের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
পুলিস সূত্রের খবর, সোমবার দুষ্কৃতীদের হাতে অপহৃত হন ঝাড়খণ্ডের লোহারডাঙ্গা বাসিন্দা ব্যবসায়ী কমল গোপ এবং গুমলার বাসিন্দা নন্দগোপাল রায়। দু’জনেই ব্যবসায়ী। তাঁদের অপহরণ করে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবি করে দুষ্কৃতীরা। মুক্তিপণ না দিলে দুই ব্যবসায়ীকে খুনের হুমকিও দিয়ে রেখেছিল তারা। সোমবার সন্ধ্যায় ঝাড়খণ্ড পুলিসের তরফে অ্যালার্ট করা হয় পুরুলিয়া জেলা পুলিসকে। জানানো হয়, বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী কোনও এলাকায় ওই দুষ্কৃতীরা গা ঢাকা দিয়েছে। দ্রুত উদ্ধার করতে না পারলে যে কোনও মুহূর্তে খুন হয়ে যেতে পারেন দুই ব্যবসায়ী। খবর পাওয়া মাত্রই একটি বিশেষ টিম গঠন করে অভিযানে নামে পুলিস। সেই টিমটি আবার একাধিক ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে শুরু করে তল্লাশি। একাধিক জায়গায় নাকা চেকিং চলে। গোটা অপারেশনের নেতৃত্ব দেন ঝালদার এসডিপিও গৌরব ঘোষ।
বিশেষ সূত্রে পুলিস জানতে পারে, অযোধ্যা পাহাড়তলির বুড়দা এলাকায় রয়েছে দুষ্কৃতীরা। কিন্তু ওই এলাকাটি জঙ্গল ও দুর্গম। তার উপর ঘন অন্ধকার। এমন প্রতিকূল পরিবেশে অপেরেশন খুব একটা সহজ ছিল না পুলিসের কাছে। তা সত্ত্বেও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ঝুঁকি নিয়েই দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন এসডিপিওর নেতৃত্বে থাকা টিমের সব সদস্যই। জেলার পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর ছিল, মুক্তিপণের টাকা না পেলে দুষ্কৃতীরা ওই দুই ব্যবসায়ীকে খুন করে দিতে পারে। তাই তাঁদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করাই আমাদের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা তা করতে পেরেছি। খবর পাওয়ার তিন ঘন্টার মধ্যেই আমরা ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করেছি। ঘটনাস্থল থেকেই দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। পরে, তল্লাশিতে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করি। ঘটনায় মোট চারজন গ্রেপ্তার হলেও আরও অনেকেই জড়িয়ে রয়েছে। প্রত্যেকেই দাগী অপরাধী। এই অপরাধের সঙ্গে বাংলার কিছু ক্রিমিনালও জড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আশা করছি তাদেরও ধরতে পারব।’ পুলিস সুপার জানিয়েছেন, অপহরণের কাজে যে চারচাকা গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই গাড়ি ও তিনটে বাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই বাইকগুলি নিয়ে দুষ্কৃতীরা পুলিসের গতিবিধি নজর রাখছিল।
পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে যেভাবে অপরাধ বাড়ছে, তাতে চিন্তায় পুলিসও। জেলার পুলিস সুপার জানান, পুরুলিয়া জেলার সীমান্ত ঘেঁষা ঝাড়খণ্ডের ছ’টি জেলা রয়েছে। প্রায় ৩৮২ কিলোমিটার বর্ডার। ১১টা জায়গায় ২৪ ঘণ্টা নাকা চেকিং চলে। তবে, এর বাইরেও সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাহাড়, ঘন জঙ্গল রয়েছে। দুষ্কৃতীরা সেইসব পথ ব্যবহার করে অপরাধ ঘটানোর চেষ্টা করছে। তবে পুলিস সবসময় সতর্ক রয়েছে।