Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পণের বকেয়া টাকা না পেয়ে নার্সকে প্রাণে মারার চেষ্টা

পণের বকেয়া টাকা না পেয়ে নার্সকে প্রাণে মারার চেষ্টা
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পণের বকেয়া টাকা না পেয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাসপাতালের এক নার্সকে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের জঙ্গলে শ্বাসরোধ করে প্রাণে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নার্সকে দক্ষিণ ২৪পরগনার ভাড়াবাড়ি থেকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে বাপের বাড়ি পৌঁছনোর নাম করে বিষ্ণুপুরে নিয়ে আসা হয়। গভীর রাতে এমআইটি মোড়ের কাছে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে তাঁকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামী তাঁকে শ্বাসরোধ করে প্রাণে মারার চেষ্টা করে। অচৈতন্য হয়ে পড়ায় মারা গিয়েছেন ভেবে নার্সের স্বামী পালিয়ে যায়। পরে জ্ঞান ফিরলে ওই নার্স বাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানান। তাঁরা এসে বিষ্ণুপুরের রাধানগর এলাকায় বাপেরবাড়ি নিয়ে যান। ঘটনায় স্বামীর শাস্তি চেয়ে ওই নার্স বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুরের রাধানগর এলাকার ওই নার্সের সঙ্গে দু’বছর আগে জয়পুর থানা এলাকার এক যুবকের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় পাত্রপক্ষ নগদ তিনলক্ষ টাকা এবং তিন ভরি সোনার গয়না সহ অন্যান্য দান সামগ্রী দাবি করে। গয়না ও দানসামগ্রী সমস্ত দেওয়া হলেও বিয়ের সময় নগদ ১লক্ষ ২০হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দেন পাত্রীর বাবা। কিন্তু, অষ্টমঙ্গলা পেরতে না পেরতেই বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য পাত্রপক্ষ উঠে পড়ে লাগে। টাকা আনার জন্য প্রতিনিয়ত কুকথা শোনাতে থাকে নার্সের স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। প্রতিবাদ করলে মারধরও করা হয়। এরপরেই ওই নার্স তাঁর কর্মস্থলে ফিরে যান। সেখানে ভাড়াবাড়িতে গিয়েও তাঁর স্বামী টাকার জন্য অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধর করত। বিয়ের সময় নেওয়া লোন শোধ হয়ে গেলেই নতুন করে লোন নিয়ে বকেয়া সমস্ত টাকা শোধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নার্সের কথা তাঁর স্বামীর বিশ্বাস হয়নি। ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। সাংসারিক সুখের আশায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেননি। কিন্তু, কিছুদিন আগে হঠাৎ একদিন তাঁর স্বামী বিয়ের সময় দেওয়া সমস্ত দান ও আসবাবপত্র গাড়িতে চাপিয়ে দক্ষিণ ২৪পরগনায় নিয়ে গিয়ে ভাড়াবাড়িতে ঢুকিয়ে দেয়। গাড়ি ভাড়া বাবদ ১০ হাজার টাকা চায়। টাকা না দেওয়ায় ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। বাধ্য হয়ে নার্স গাড়ির ড্রাইভারকে অনলাইনে তিন হাজার টাকা দেন। এরপরেই নার্সকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে বিষ্ণুপুরের উদ্দেশে রওনা দেয় স্বামী। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ বিষ্ণুপুর ঢোকার আগে এমআইটি মোড়ের কাছে গাড়ি থামিয়ে নার্সকে জঙ্গলের ভিতরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শ্বাসরোধ করে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়। তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়ায় একটা সময় মারা গিয়েছে ভেবে সেখানেই ফেলে রেখে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে জ্ঞান ফিরলে নার্স বাপেরবাড়ির লোককে ফোন করে জানালে তাঁর দাদা এসে নিয়ে যান। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর স্বামীর চরম শাস্তি চেয়ে তিনি বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ