সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পুকুর সংস্কারকে কেন্দ্র করে শরিকি বিবাদ। সেই ঝামেলার জেরে এক তুতো ভাইয়ের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এক ব্যক্তি। কোতুলপুরের সাহানা-রঘুনাথপুরের ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের দোকান ও বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অতিরিক্ত পুলিস সুপারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিস বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে। জখম হাসিবুল রহমান ভুঁইয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরামবাগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গ্রামে পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোতুলপুরের গোপীনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহানা-রঘুনাথপুরে একাধিক তুতো ভাইয়ের একটি শরিকি পুকুর রয়েছে। মাছচাষের উদ্দেশ্যে অংশীদাররা পুকুরটি সংস্কারে উদ্যোগী হন। সেইমতো রবিবার সকালে আর্থমুভার আসে। তখনই এক শরিক ফরিদুল রহমান ভুঁইয়া তাতে আপত্তি জানায়। তা নিয়ে অন্যান্য শরিকদের মধ্যে বচসা হয়। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মাঝেই ফরিদুল তার দোকান থেকে পেট্রল নিয়ে এসে এক শরিক হাসিবুলের গায়ে ঢেলে দেয়। এরপর সে জ্বলন্ত দেশলাইয়ের কাঠি হাসিবুলের দিকে ছুঁড়ে দেয় বলে অভিযোগ। হাসিবুলের চিৎকারে অন্যান্য শরিকরা তাঁর গায়ের আগুন নেভান। তাঁকে প্রথমে কোতুলপুর গ্রামীণ হাসপাতাল এবং পরে আরামবাগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
জখম হাসিবুলের মামা আজাদ আলি বায়েন বলেন, শরিকি পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে মজে যাওয়ায় ভালো মাছচাষ হচ্ছিল না। সেজন্য সকলে মিলেই পুকুর সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এদিন সকাল থেকেই তা নিয়ে ফরিদুলের সঙ্গে অন্যান্য শরিকদের বাদানুবাদ চলছিল। সকাল ৯টা নাগাদ উভয়ের বচসা চলাকালীন হঠাৎই ফরিদুল পেট্রলের বোতল বের করে হাসিবুলের মুখে ছুঁড়ে দেয়। তারপর মূহূর্তের মধ্যে দেশলাই কাঠি জ্বেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ফরিদুল আগাম পরিকল্পনা করেই তার দোকান থেকে লুকিয়ে পেট্রল নিয়ে এসেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সামান্য পুকুর সংস্কারকে কেন্দ্র করে এভাবে প্রকাশ্যে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রামবাসীরা স্তম্ভিত। স্বাভাবিক কারণেই তাঁরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁরাই অভিযুক্তের দোকান ও বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। পরে প্রচুর পুলিস আসায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বেগতিক পরিস্থিতি দেখে অভিযুক্ত লুকিয়ে পড়ে। পরে গ্রামবাসীরা তাকে ধরে পুলিসের হাতে তুলে দেন। তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তাঁরা। পুলিস অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। গোটা গ্রাম থমথমে।