Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রহড়ার বৃদ্ধাশ্রম থেকে নিখোঁজ বৃদ্ধ পরিবারের কাছে খবর গোপন করার চেষ্টা

অবিবাহিত বৃদ্ধকে পরিবারের লোকেরা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গিয়েছিলেন

রহড়ার বৃদ্ধাশ্রম থেকে নিখোঁজ বৃদ্ধ পরিবারের কাছে খবর গোপন করার চেষ্টা
  • ১২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: অবিবাহিত বৃদ্ধকে পরিবারের লোকেরা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গিয়েছিলেন। কিন্তু রহড়ার ওই বৃদ্ধাশ্রম থেকে নিখোঁজ হয়ে যান শ্যামনগরের এক বৃদ্ধ। শুধু তাই নয়, ওই বৃদ্ধের পরিবারের দাবি, প্রায় একমাস ধরে তিনি নিখোঁজ। কিন্তু হোম কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিষয়টি জানায়নি। সেকারণে, হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বৃদ্ধের ভাই রহড়া থানার দারস্থ হয়েছেন। যদিও হোম কর্তৃপক্ষ গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

Advertisement

দমদমের শ্যামনগরের বাসিন্দা ভিক্টর দত্ত। গত চার বছর ধরে তিনি একটি বৃদ্ধাশ্রমে থাকতেন। ওই বৃদ্ধাশ্রম প্রথমে সোদপুর, পরে মধ্যমগ্রামের বাদু এলাকায় স্থান পরিবর্তন করেছিল। মাসখানেক আগে তা রহড়া থানা এলাকার রুইয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসে। অবিবাহিত ভিক্টরবাবুর ভাই বৃদ্ধাশ্রমের মাসিক খরচ দিতেন। এখানে মোট প্রায় ২২জন আবাসিক থাকেন। চলতি সপ্তাহে ভিক্টরবাবুর ভাই অভিজিৎ দত্ত বৃদ্ধাশ্রমে এসে জানতে পারেন, ভাই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ এনিয়ে থানায় কোনও নিখোঁজ ডায়েরি করেনি। এরপর তিনি রহড়া থানায় গিয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেন।
ভিক্টরবাবুর ভাই অভিজিৎ দত্ত বলেন, দাদার খোঁজ নিতে মাঝেমধ্যে বৃদ্ধাশ্রমে যেতাম। কখনও ফোন করতাম। কিন্তু গত একমাস ধরে আমাদের দাদার সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছিল না। ভিডিও কলে যোগাযোগের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। আমি দাদার সঙ্গে কথা বলার জন্য জোরাজুরি করায়, অন্য এক আবাসিককে দাদা সাজিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলিয়েছিল। কিন্তু আমার সন্দেহ হওয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ওরা প্রথমে নিজেদের নতুন ঠিকানা বলতে চায়নি। পরে নিজে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, দাদা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটেছে।
আর বৃদ্ধাশ্রমের কর্ণধার উজ্জ্বল সরকার বলেন, মধ্যমগ্রাম থেকে মাসখানেক আগে বৃদ্ধাশ্রম স্থানান্তর হয়ে এসেছে। ভিক্টরবাবু চার বছর ধরে এই বৃদ্ধাশ্রমে রয়েছেন। আগেও কয়েকবার বেরিয়ে গিয়েছিলেন। আমরা কখনও খুঁজে নিয়ে এসেছি, নয়তো উনি নিজেই এসেছেন। কিন্ত এবার কীভাবে তিনি নিখোঁজ হয়ে গেলেন, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমরা কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছি। থানায় জানিয়েছি। পুলিসের পাশাপাশি আমরাও ওকে খোঁজার চেষ্টা করছি। তাই গাফিলতির অভিযোগ ঠিক নয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ