সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: এনটিএ (ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি) থেকে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসই হয়নি। বৃহস্পতিবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমনই দাবি সংস্থার ডিজি অভিষেক সিংয়ের। আর এই অস্বীকার-আচরণের (ডিনাইয়াল মোড) পালটা মোদি সরকারের আমলে ২০১৭ সালে তৈরি পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাকে চেপে ধরলেন সাংসদরা। যদিও এরপর ভবিষ্যতে যে কোনোভাবে প্রশ্ন ফাঁস হবে না, তারও কোনো গ্যারান্টি দিতে পারল না এনটিএ। কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ তথা শিক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দিগ্বিজয় সিং বৈঠকের পর বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সব সাংসদই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।’
অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে নিটের প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রকের প্রতিনিধির পাশাপাশি এনটিএ’র চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার জোশি এবং ডিজি অভিষেক সিংকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। দুপুর ১ টা থেকে সাড়ে তিনটে পর্যন্ত চলল বৈঠক। এনটিএ’র দুই শীর্ষকর্তাকে পড়তে হল প্রশ্নের মুখে। বিশেষ সূত্রে খবর, প্রশ্ন ফাঁসের দায় এড়াতে এনটিএ’র চেয়ারম্যান তো বলেই বসেন, আমি তো দিল্লিতে থাকিই না। উত্তরাখণ্ডে থাকি। মাঝে মধ্যে এনটিএ’র কাউন্সিল বৈঠকে যোগ দিতে আসি। ফলে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে কিছুই জানি না।
আবার অভিষেক সিংয়ের মন্তব্য, এনটিএ’র থেকে প্রশ্ন ফাঁসই হয়নি। ফলে সংস্থার কোনো দোষ নেই। আর প্রশ্ন ফাঁসের তো সিবিআই তদন্ত হচ্ছে। সেখানে যা হওয়ার হবে। তাজ্জব এবং দায়সারা এই জবাবে সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান দিগ্বিজয় জানতে চান, প্রশ্ন যদি ফাঁস হয়নি বলেই দাবি করছেন, তাহলে ফের নতুন করে আগামী ২১ জুন পরীক্ষা নিচ্ছেন কেন? ২০২৪ সালে একইভাবে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর যখন জয়পুর, হাজারিবাগ এবং লাতুরের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল, তখন কেন সতর্ক হননি? ২০২৪ সালের প্রশ্ন ফাঁসের পর হাই পাওয়ার কমিটির রিপোর্টও কেন অগ্রাহ্য করা হয়েছে? সিবিআই যে তদন্ত করছে, তার রিপোর্ট সংসদীয় কমিটির সামনে পেশ করা হোক।
যদিও এতে আপত্তি তোলেন বিজেপির বাঁশুরি স্বরাজ। তবে তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এনটিএ সম্পর্কে যে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে, তা দূর করা উচিত। গুজরাতের বিজেপি সাংসদ শোভনাবেন বারাইয়া স্পষ্টভাষায় বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের মাফিয়ারাজ খতম হওয়ার দরকার। তাঁকে সমর্থন করে বিজেপির রেখা শর্মার মন্তব্য, এতে পরীক্ষার্থীদের ওপর খুব মানসিক চাপ পড়ে। কংগ্রেসের ডিন কুরিয়াকোজ স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, প্রশ্ন ফাঁসে এনটিএ’কে নিয়েই সরকারের তদন্ত করা উচিত। নাহলে যখনই ঘটবে, তখনই স্রেফ ডিজি বদলে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। সংস্থার কাঠামো তো একই থাকছে। তাহলে প্রশ্ন ফাঁসে কেন এনটিএ’কে কাঠগড়ায় তোলা হবে না? প্রশ্ন ছোঁড়েন তিনি।
এদিকে, তাৎপর্যপূর্ণভাবে বুধবার রাতে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকেও নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। সরকারি সূত্রে খবর, বৈঠকে তিনি বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা আদপে সরকারেরই ভাবমূর্তিতে আঘাত হানে। তাই ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া এদিনের বৈঠকে সমস্ত মন্ত্রকের কাজকর্মের রিপোর্ট খতিয়ে দেখেন মোদি। তারপর জানান, সরকারের কোনো কাজ ফেলে রাখা যাবে না। সেই সঙ্গে জোর দিতে হবে বিকশিত ভারত কর্মসূচিতে।