নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে’র নাম ও ছবি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তার করল। খড়দহ থানা সূত্রের খবর, ধৃতরা হল শুভজিৎ রায় ও বিক্রম রায়। তাদের জেরা করছে পুলিস। ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। পানিহাটির পুর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে’র নাম ভাঁড়িয়ে একটি অচেনা নম্বর থেকে এক ব্যক্তি কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষকে ফোন করে। ২০ একর জমিতে প্রোমোটারি করার প্রস্তাব দেওয়া হয় তাঁকে। সন্দেহ হতেই সুশান্তবাবু বিষয়টি বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিককে জানান। এমপির কাছ থেকেই সোমনাথবাবু জানতে পারেন যে, তাঁর মোবাইল ফোন নম্বর ও ছবি জাল করে একটি চক্র প্রতারণার ছক কষেছে। শুক্রবার তিনি এই ব্যাপারে খড়দহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং বারাকপুরের পুলিস কমিশনার মুরলীধর শর্মার গোচরে আনেন। দ্রুত তদন্তে নামে পুলিস।
শুক্রবার রাতেই দত্তপুকুর থানার ন’পাড়া নেতাজিপল্লি থেকে শুভজিৎ ও বিক্রমকে ধরা হয়। ধৃতদের নামে প্রতারণার পুরনো একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও পুলিসের দাবি। পুলিস জানাচ্ছে, এই চক্র আগেও বারাকপুর, টিটাগড়, মধ্যমগ্রাম প্রভৃতি পুরসভার চেয়ারম্যানের নাম ভাঁড়িয়ে এবং তাঁদের কণ্ঠস্বর নকল করে ফোন করত। সহজে জমি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে মানুষকে বোকা বানাত তারা।
তদন্তে নেমে পুলিস জেনেছে, বছরকয়েক আগে বারাকপুরের চেয়ারম্যান উত্তম দাসের নাম করে আনন্দপুরী মাঠ বিক্রির টোপ দেওয়া হয়। আর ওই ফাঁদে ফেলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে চার লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল এই চক্র। এই দুই ‘কীর্তিমান’ গ্রেপ্তারও হয়েছিল তখন। পুলিস আরও জেনেছে, ধৃতদের একজনের নামে মোট ২২টি মামলা রয়েছে। বারাকপুরের ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দ্রবদন ঝাঁ বলেন, ‘ধৃতদের পুলিস হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। এই চক্রের পিছনে আর কেউ রয়েছে কি না জানার চেষ্টা চলছে। এই চক্রের সকলকেই ধরা হবে। চেয়ারম্যানের নাম ভাঁড়িয়ে ফোনের পুরোটাই এক প্রতারণা
চক্রের কাণ্ড।’