নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: কংগ্রেসের প্রচারগাড়িতে হামলা ঘিরে উত্তপ্ত হল নন্দীগ্রাম। সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ সেখানকার তেরপেখ্যা ট্রেকার স্ট্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা প্রচারগাড়ি লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছুড়েছে। গাড়িতে লাঠি দিয়ে আঘাত, ট্যাবলো ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। লাঠির ঘায়ে হাতশিবিরের খোদামবাড়ি-২ অঞ্চল সভাপতি পিনাকী বেরার মাথা ফেটে রক্ত গড়ায়। গাড়ির চালকও জখম হন। জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় ট্রেকার স্ট্যান্ডে ওই প্রচারগাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন চালক। বিজেপি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ পর্যবেক্ষকের কাছে অভিযোগ জানান কংগ্রেস প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট সুব্রত মহাপাত্র। ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের পুরনো মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী জেলে আছেন। তাঁর স্ত্রী অর্পিতা প্রধান অসুস্থ অবস্থায় প্রচার করছেন। সুব্রতবাবুর অভিযোগ, নন্দীগ্রাম-১ ও ২ ব্লকে সেই প্রচারে ভালো সাড়া পড়ছে। সেকারণে ভয়ে বিজেপি হামলা চালিয়েছে। এদিন ঘটনার পর নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ তেরপেখ্যায় পৌঁছায়।
একসময় নন্দীগ্রাম ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির কাণ্ডারি শেখ সুপিয়ান, শেখ সাহাবুদ্দিনদের গ্রেপ্তার করতে রবিবার পরোয়ানা নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। একদা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ জমি আন্দোলনের সামনের সারির এসমস্ত নেতাদের বাড়িতে পুলিশি অভিযান ঘিরে নন্দীগ্রামের রাজনীতি তপ্ত। ২ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে তিন জায়গায়-বিরুলিয়া, দেবীপুর মিলন বিদ্যাপীঠ স্কুল ময়দান ও নারায়ণচক হাইস্কুল মাঠে সভা করবেন। তার আগে সোমবার কংগ্রেসের প্রচারগাড়িতে হামলায় উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
সুব্রত মহাপাত্র বলেন, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে ভয় পাচ্ছে বিজেপি। তাই মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই আমাদের প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রচারগাড়িতেও হামলা চালাচ্ছে। নন্দীগ্রাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করে দিলেও এখানে সেই অর্থে উন্নয়ন হয়নি। মানুষ সেটা বুঝতে পেরেছেন। তাই উপনির্বাচনে বিজেপিকে জোরজবরদস্তি করতে হচ্ছে। এবিষয়ে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, কংগ্রেস প্রচার পেতে এসব করছে। ওরা আগে প্রচারের এই সস্তা কৌশল সম্পর্কে অবগত ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওদের সমর্থন করার পর ওই কৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন। সর্বশেষ বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে ২লক্ষ ৫২হাজার ৭২২টি ভোট পড়েছিল। কংগ্রেস প্রার্থী তার মধ্যে ৭৯৪টি ভোট পেয়েছিলেন। সেই দলের প্রচারগাড়ি ভাঙার মতো দুর্দিন বিজেপির আসেনি।