Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আত্রেয়ীর ঘাট লিজ দিতে রাজ্যের কাছে আবেদন জেলা প্রশাসনের

আত্রেয়ীর ঘাট লিজ দিতে রাজ্যের কাছে আবেদন জেলা প্রশাসনের
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পতিরাম: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় দীর্ঘদিন বালি পাচারে সক্রিয় মাফিয়ারা। ফলে ব্যাপক রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে সরকারের। এবার পাচার রুখতে আত্রেয়ী নদীর ঘাটগুলি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে জেলা প্রশাসন। বালুরঘাটের চারটি ও কুমারগঞ্জ ব্লকের ১২টি ঘাটে বৈধভাবে বালি তোলার অনুমতি দেওয়ার জন্য রাজ্যের কাছে আবেদন পাঠিয়েছে প্রশাসন। ওই নদীঘাটগুলি লিজ দেওয়া হলে পাচার কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের ঘরে রাজস্বও ঢুকবে।
Advertisement
এবিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, আত্রেয়ীতে বালি তোলার জন্য লিজ বা নিলামের দায়িত্ব রাজ্যের মিনারেল ট্রেডিং কর্পোরেশনের। সেখানে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, অনুমতি মিলবে। পাশাপাশি অবৈধভাবে যাতে বালি তোলা না হয়, সেজন্য অভিযান চলছে। 
এদিকে বালি পাচার নিয়ে শনিবার তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তাঁর মন্তব্য, তৃণমূলকে টাকা দিলে ডিএম অফিসটাও বিক্রি হয়ে যেতে পারে। আত্রেয়ী নদীতে বাঁধ ও চর কেটে বালি তোলা হলেও প্রশাসনের কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। তৃণমূলের নেতারা ভাগ পায় বলেই প্রশাসন লিজ দেয় না। এমনকী অভিযানেরও নামগন্ধ নেই।  
পাল্টা তৃণমূল জেলা সহ সভাপতি সুভাষ চাকী বলেন, বালি পাচারের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। সুকান্ত মজুমদার ভুলভাল কথা বলে প্রচারে থাকতে চাইছেন। 
প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলাজুড়ে দীর্ঘদিন বালি তোলায় নিষেধাজ্ঞা থাকার ফলেই পাচার বাড়ছে। পতিরাম থেকে একেবারে বালুরঘাটের ডাঙ্গী সীমান্ত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় নৌকা, আর্থমুভার নামিয়ে দিনরাত বালি তোলার অভিযোগ উঠছে। 
অভিযান চালিয়ে ট্রাক্টর আটক করলেও মাথাদের গ্রেপ্তার করা যায় না। এর অন্যতম কারণ পাচারকারীরা ইনফরমার নিয়োগ করে ভূমিদপ্তরের আশেপাশে নজরদারির জন্য মোতায়েন করে রাখে। প্রশাসনের গাড়ি বেরলেই নম্বর দেখে তারা খবর দিয়ে দেয় বাকিদের। ফলে ঘটনাস্থলে গিয়েও কাউকে পান না দপ্তরের আধিকারিকরা। বেশিরভাগ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর দিনতিনেক আছে ছক বদলে ভাড়ার গাড়িতে পাচারের জায়গায় গিয়েছিলেন ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা। পাচারকারীরা সেকথা টের না পাওয়ায় পাগলিগঞ্জ ব্রিজের কাছে বালি বোঝাই দু’টি ট্রাক্টর ধরা পড়ে। ঘাট লিজ দেওয়া হলে পাচার বন্ধ হবে বলে মনে করছেন দপ্তরের আধিকারিকরা।
সম্পর্কিত সংবাদ