Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আতঙ্ক কাটাতে ছাত্রছাত্রীদের বাঘের গল্প শোনাচ্ছেন পুরুলিয়ার শিক্ষকরা

আতঙ্ক কাটাতে ছাত্রছাত্রীদের বাঘের গল্প শোনাচ্ছেন পুরুলিয়ার শিক্ষকরা
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
পিনাকী ধোলে, বান্দোয়ান: জিনাত আতঙ্কে কম্পমান বান্দোয়ানের জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলি। গ্রামের বাসিন্দারা ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। আতঙ্ক এতটাই জাঁকিয়ে বসেছে বাসিন্দা আর তাঁদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে যে, পড়ুয়াদের ভীতি কাটাতে সচেতনতার পাঠ দিতে শুরু করেছেন স্কুলের শিক্ষকরা। তাঁরা বাঘের নানা কাহিনি শোনাচ্ছেন ছাত্রছাত্রীদের। তারাও বাঘের গল্প শুনছে বিভোর হয়ে। 
Advertisement
মঙ্গলবার ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১২টা। বান্দোয়ান থেকে রাইকার জঙ্গলে যাওয়ার পথেই পড়ে কেশরা প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখান থেকে মেরেকেটে ৫০০ মিটার গেলেই শুরু হয়ে যাচ্ছে জঙ্গল। ওই জঙ্গলেই এসে ঢুকেছে সিমিলিপালের বাঘিনী জিনাত। এদিকে ইন্টারনেট শ্যাডো জোন হওয়ায় বাঘিনীর গতিবিধি ঠিকঠাক ঠাহর করতে নাজেহাল বনদপ্তরের কর্মীরা। রবিবার থেকে কেশরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তা দিয়ে অজস্রবার আনাগোনা করেছে বনদপ্তর, পুলিস আধিকারিকদের গাড়ি। বনদপ্তরের প্রচারগাড়িও ঘুরে গিয়েছে এলাকা দিয়ে। বাসিন্দাদের জঙ্গলে না যাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে সেই গাড়ি থেকে। ব্যাপারটা যে গুরুতর, তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছে খুদেরা। তবে, তারা যাতে অযথা আতঙ্কিত না হয়, তার জন্যই সচেতনতার পাঠ দিচ্ছেন কেশরা স্কুলের শিক্ষক সাধন পান্ডা। বাঘের নানা গল্প শোনাচ্ছেন পড়ুয়াদের। বোঝাচ্ছেন বন্যপ্রাণের গুরুত্ব। স্কুলের শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, স্কুলের মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৩৬। প্রতিদিনই গড়ে ২৮-৩০ জন পড়ুয়া উপস্থিত থেকে। এলাকায় বাঘের আতঙ্ক সত্ত্বেও মঙ্গলবার হাজির হয়েছিল ২৮ জন পড়ুয়া। সাধনবাবু বলেন, ‘প্রায় দেড় কিলোমিটার দূর থেকেও পড়ুয়ারা স্কুলে এসেছে। বাঘের গল্প শুনতে চেয়েছে। আমিও শুনিয়েছি।’ এই বাঘিনী কীভাবে জঙ্গলে এল, তাকে ধরার জন্য বনদপ্তরের কর্মীরা কীরকম চেষ্টা করছেন, সেইসবই শোনান শিক্ষক। তবে এখানেই থেমে না থেকে এদিন তিনি শোনান সুন্দরবনের বাঘের গল্পও। ওই এলাকার মানুষ কীভাবে বাঘের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে সেই কাহিনি শোনান সাধনবাবু। এদিন রাইকা পাহাড়তলির গ্রাম উদলবনি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও দেখা গেল অন্য চিত্র। স্কুলবাড়িটি যে কোনও সময়ে ভেঙে পড়তে পারে। তাই ঝুঁকি নিয়েও খোলা আকাশের নীচে ক্লাস চালিয়ে গিয়েছেন শিক্ষকরা। 
তবে, বাঘ নিয়ে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে মানুষের। এদিনই রাহামদা এলাকার এক পরিবারের পোষা ছাগল নিখোঁজ হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হয়েছে অন্তত পাঁচটি মৃত ছাগলের দেহাবশেষ। বাঘকে বাগে আনতে সকাল থেকেই এলাকায় ঘুরছে ওড়িশার সিমলিপাল, সুন্দরবনের বনকর্মীদের বিশেষ দল। সন্ধ্যায় ভাঁড়ারিয়া পাহাড়ে জালও নিয়ে যায় বনকর্মীরা। তবে বাঘের দেখা মেলেনি। এদিন বিকেলে এই পাহাড় এলাকাতেই বাঘের শেষ দেখা মিলেছিল। তারপর থেকে আর তার আর টিকিটি দেখতে পায়নি বনকর্মীরা। সূত্রের খবর, এই পাহাড়ে একাধিক গুহা রয়েছে। বাঘটি কোনও গুহায় ঢুকেও আস্তানা গাড়তে পারে। রাজ্যের দক্ষিণ পূর্ব বনবিভাগের মুখ্য বনপাল (দক্ষিণ পশ্চিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত) বিদ্যুৎ সরকার বলেন, রাইকার তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকাজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে জিনাত। তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি আমরা।
সম্পর্কিত সংবাদ