নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: পণের জন্য বধূকে খুনের দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল ঝাড়গ্রাম আদালত। সাজাপ্রাপ্তের নাম রাজু মাহাত। গত বৃহস্পতিবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম দায়রা আদালতের বিচারক কল্লোল চট্টোপাধ্যায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে পাঁচহাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও ছ’মাস জেল খাটতে হবে।
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়াগ্ৰামের গোখুরপাল এলাকার বাসিন্দা রাজুর সঙ্গে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার বনকাটির সুরুচি মাহাতর(২৫) বিয়ে হয়েছিল। পণের দাবিতে সুরচির উপর অত্যাচার চলত। সন্তান হওয়ার পরেও তা থামেনি। দুই পরিবারের মধ্যে সালিশি সভা ডেকে সমস্যার সমাধানের চেষ্টাও হয়। ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নৃশংস খুনের ঘটনাটি ঘটে। এক আত্মীয়ের সামনেই গলায় নাইলনের দড়ি পেঁচিয়ে সুরচিকে শ্বাসরোধ করা হয়। মৃতার বাবা অভিলাষ মহন্তী ঘটনার দিন নয়াগ্ৰাম থানায় জামাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিস ওইদিনই রাজুকে গ্ৰেপ্তার করে। ঘটনার তিনমাসের মাথায় তদন্তকারী দল ঝাড়গ্রাম জেলা আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। বাইশ সালের নভেম্বর মাসে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। ১২জন সাক্ষ্য দেন। ঝাড়গ্রাম আদালতের সিনিয়র পাবলিক প্রসিকিউটর সত্যজিৎ সিনহা বলেন, বধূ নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় রাজুকে সাজা দেওয়া হয়েছে। ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছ’মাস জেল খাটতে হবে। এছাড়াও বিচারক ৪৯৮(এ) বধূ নির্যাতনের ধারায় দু’হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ের তিন মাস জেলের নির্দেশ দিয়েছেন।



