Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাস্তায় ফেলে মার উকিলের গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট

বর্ধমান আদালতের মহিলা আইনজীবীকে মারধরের জেরে গর্ভপাত হওয়ার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিস

রাস্তায় ফেলে মার উকিলের গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট
  • ২০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: দোলের দিন পুলিস অফিসার পরিচয় দিয়ে দাদাগিরি। বর্ধমান আদালতের মহিলা আইনজীবীকে মারধরের জেরে গর্ভপাত হওয়ার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম রোহিত দাস। শক্তিগড় থানার গাংপুরে তার বাড়ি। তার বাড়ি থেকে একটি বাইক বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। ঘটনার সময় অভিযুক্ত সেটিতে চেপে ছিল বলে পুলিসের দাবি। ধৃতকে বুধবার বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে তিনদিন হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। এদিনই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নির্যাতিতা আইনজীবীর গোপন জবানবন্দি নথিভুক্ত করিয়েছে পুলিস। ঘটনার প্রতিবাদে এদিন কর্মবিরতি পালন করেন আইনজীবীরা। ধৃতের হয়ে কোনও আইনজীবী এদিন দাঁড়াননি। বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। লজ্জাজনকও বটে। মহিলা আ‌ইনজীবীর সঙ্গে এধরনের ঘটনা ঘটল। অথচ, পুলিস প্রথমে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। পরে চাপে পড়ে ব্যবস্থা নিয়েছে। 

Advertisement

পুলিস ও বার অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫মার্চ বর্ধমানের দোলের দিন বেলা দেড়টা নাগাদ ওই মহিলা আইনজীবী তাঁর স্বামীর সঙ্গে বাইকে চেপে জেলখানা মোড় হয়ে তাঁদের বিজয়রাম হরিনারায়ণপুরের বাড়ি ফিরছিলেন। জেলখানা মোড়ে মার্কেট কমপ্লেক্সের সামনে একটি বাইক তাঁদের বাইকে ধাক্কা মারে। মহিলা আইনজীবী ও তাঁর স্বামী চালককে ধীরে বাইক চালানোর জন্য বলেন। এতে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এসবের মধ্যেই একটি বাইক এসে সেখানে দাঁড়ায়। বাইকটিতে ‘পুলিস’ স্টিকার সাঁটানো ছিল। বাইক থেকে নেমেই নিজেকে পুলিস অফিসার পরিচয় দিয়ে দাদাগিরি শুরু করে ওই যুবক। আইনজীবী ও তাঁর স্বামীকে শাসাতে থাকে সে। মহিলা আইনজীবীকে সে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মহিলা আইনজীবীর স্বামী তাঁর স্ত্রীর পেশাগত পরিচয় দেন। তারপরও দাদাগিরি বন্ধ হয়নি অভিযুক্তের। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। মহিলা আইনজীবীকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়। আইনজীবীর স্বামী তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী বলে জানান। তারপরও মারধর বন্ধ হয়নি। মহিলা আইনজীবীকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। তাঁর পেটে লাথি মারা হয়। সেসময় সেখানে হাজির ছিলেন মহিলা আ‌ইনজীবীর এক আত্মীয়া। তাঁকেও মারধর করা হয়। এমনকী তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের ফলে মহিলা আইনজীবীর রক্তপাত শুরু হয়। পরে গর্ভপাত হয়। তিনি বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানাতে যান। সেখানে তাঁকে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক দেখে তাঁকে জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। কিন্তু, থানা থেকে লিখে না দিলে তাঁকে ভর্তি নেওয়া হবে না বলে হাসপাতাল থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। মহিলা আ‌ইনজীবী ও তাঁর পরিবারের লোকজন ফের থানায় যান। তারপরও থানা কোনও অভিযোগ নেয়নি। পরেরদিন শহরের দুই চিকিৎসকের কাছে মহিলা আ‌ইনজীবীর চিকিৎসা হয়। এরপরই তিনি বিষয়টি বার অ্যাসোসিয়েশনে জানান। বার অ্যাসোসিয়েশন থানার নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এসপিকে চিঠি দেয়। ঘটনার বিহিত চেয়ে কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্তের চিঠি দেওয়া হয় জেলা জজকে। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিস। মহিলা আইনজীবীর অভিযোগ জমা নেওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ