Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬

কার নির্দেশে পেলেট গান? রাহুলের চিঠি, চাপে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, ব্যবহারে সাময়িক ‘নিষেধাজ্ঞা’

রাহুল গান্ধী পেলেট গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে অমিত শাহকে চিঠি লিখেছেন। সরকারের পদক্ষেপে ছাত্রদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ। বিস্তারিত পড়ুন।

কার নির্দেশে পেলেট গান? রাহুলের চিঠি, চাপে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, ব্যবহারে সাময়িক ‘নিষেধাজ্ঞা’
  • ২৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: জেন জি আপাতত শান্ত। তাই সড়কে সরকারের সাময়িক স্বস্তি। কিন্তু সংসদে নয়। কারণ, একজোট বিরোধীদের এবার সরাসরি টার্গেট মোদি-শাহ। প্রশ্ন ফাঁসে কঠোর শাস্তি, দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে মোদি সরকার আজ লোকসভায় পেশ করবে সংশোধনী বিল। ‘দ্য পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়র মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। দু’বছর আগে তৈরি আইনের সংশোধন। স্রেফ পেশই নয়। ওই বিল আজই পাশ করাতে চায় সরকার। যদিও বিরোধীরা সরকারকে সেই সুযোগ দিতে নারাজ। তাই সোমবার ফের উত্তাল হওয়ার আশঙ্কায় সংসদ।

Advertisement

এই রাজনৈতিক পদক্ষেপের ‘ভূমিকা’ হিসাবে পত্রাঘাত সেরে রেখেছেন রাহুল গান্ধী। অমিত শাহকে দেওয়া তাঁর চিঠির বিষয়বস্তু—যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভরত ছাত্র-যুবদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ। পেলেট গানের গুলি। সংসদে চাওয়া হবে অমিত শাহের জবাব। স্লোগান উঠবে, ‘অমিত শাহ জবাব দো। প্রধানমন্ত্রী মাফি মাঙ্গো।’ গত ২০ জুলাই ছাত্র-যুবর সংসদ চলো অভিযানে পুলিশ চালিয়েছে পেলেট গান। সেই আঘাতে শরীরজুড়ে ছিদ্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশ বা সিআরপিএফের র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ) অস্বীকার করেছে ঠিকই। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালের রিপোর্ট এবং ১৯ বছরের ছাত্র শাহিল লোচাবের মতো পেলেট গানে বিদ্ধকে প্রকাশ্যে এনে রাহুল গান্ধী সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, কার নির্দেশে চলেছে পেলেট গান? কেন আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছোড়া হয়েছে কাঁদানে গ্যাস? যেহেতু দিল্লি পুলিশ সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন, তাই চিঠি লিখে অমিত শাহের কাছে লোকসভার বিরোধী দলনেতা দু’টি প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন।—১) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে আপনিই কি ছাত্রদের উপর পেলেট গান সহ প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছিলেন? যদি না দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই অনুমতি কে দিয়েছে? ২) সাদা পোশাকে ছাত্রদের উপর যাদের নির্মমভাবে লাঠি চালাতে দেখা গিয়েছে, তারা কি পুলিশকর্মী? নাকি স্বেচ্ছাসেবক? তাদের মোতায়েনের অনুমতি কে দিয়েছে? রাহুলের বক্তব্য, গণতন্ত্রে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আলোচনার মাধ্যমে তাদের অভিযোগের সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। এ ধরনের নিষ্ঠুর ও বর্বর আচরণ গণতন্ত্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। তাই দেশের ভবিষ্যৎ যুবসমাজ ও ছাত্ররা জবাব চাইছে। তাদের কণ্ঠস্বর কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। ছাত্রীদের উপর পুলিশ স্রেফ হামলাই চালায়নি, শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গও টার্গেট করেছিল বলে অভিযোগের সুর চড়িয়েছেন রাহুল। 
এদিকে পেলেট গান ইস্যুতে সরকার যে বিপাকে, তার প্রমাণ মিলেছে সিআরপিএফের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, এই পদক্ষেপ ‘ন্যাটো’র গাইডলাইন লঙ্ঘন করেছে বলেই আলোচনা হয়েছে সেখানে। তাই পরবর্তী অর্ডার না দেওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আন্দোলনে পেলেট গান ব্যবহার করা যাবে না বলেই ঠিক হয়েছে। ধৈর্য বজায় রেখে কেন র‌্যাফ কাজ করেনি? এই প্রশ্নেও বৈঠকে আন্দোলনকারীদের সামাল দেওয়ার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের ধমক খেতে হয়েছে। দিল্লির খাকি উর্দিধারী, আর জংলা ছাপের র‌্যাফের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বৈঠকে উঠে এসেছে। 
এই আবহেই দুয়ারে কড়া নাড়ছে স্বাধীনতা দিবস। তাই তার আগে রাজধানীতে নিরাপত্তার মাত্রা বাড়াচ্ছে মোদি সরকার। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে রয়েছে ৪৫ কোম্পানি নিরাপত্তারক্ষী। তাও ককরোচ হোক কিষান, সরকার বিরোধী কোনো বিক্ষোভ-আন্দোলন যাতে সংসদ থেকে সড়ক স্তব্ধ করতে না পারে, তারই লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে অতিরিক্ত ১৬ কোম্পানি বাহিনী। ১০ কোম্পানি সিআরপিএফ এবং ছয় কোম্পানি র‌্যাফ জওয়ান নামছে দিল্লির নিকটবর্তী উত্তরপ্রদেশের হিন্ডন এয়ারপোর্টে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ