নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গলব্লাডার অপারেশনের জন্য রাজ্যের অন্যতম নামী সরকারি হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন এক রোগী। অপারেশন হয়েছে যথারীতি। কিন্তু গল ব্লাডারের বদলে কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে রোগীর অ্যাপেন্ডিক্স! এন আর এস হাসপাতালের বিরুদ্ধে উঠেছে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ভুল অস্ত্রোপচারের খেসারত দিতে হচ্ছে রোগীকে। পেটে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাতে কাতরাতে ভরতি হয়েছেন সল্টলেকের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে। আজ, সোমবার সেখানে তাঁর ফের অপারেশন হওয়ার কথা। রবিবার বিষয়টি সামনে আনেন বেলেঘাটার মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ফোন করেন কুণালবাবুকে। এসএসকেএম হাসপাতালে ওই রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিতে উদ্যোগী হন তিনি। যদিও তা সম্ভব হয়নি।
বেলেঘাটা বিধানসভার অন্তর্গত ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোপাল পোড়েল। পুর এলাকায় ১০০ দিনের কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনি। তাঁর গল ব্লাডারে স্টোন হওয়ায় তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করছিলেন। চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন এন আর এস হাসপাতালে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষার পর তাঁর গল ব্লাডার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। সেই অপারেশনেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক গল ব্লাডারের বদলে অ্যাপেন্ডিক্স কেটে বাদ দিয়ে দেন বলে অভিযোগ। তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়েও দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে পেটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাননি গোপালবাবু। বাধ্য হয়ে তাঁর বাড়ির লোকজন রবিবার তাঁকে সল্টলেকের একটি নার্সিং হোমে ভরতি করায়। সেখানেই চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, গল ব্লাডারের বদলে অ্যাপেন্ডিক্স বাদ দেওয়া হয়েছে। এদিনই খবরটি পান বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে এত বড়ো ভুল কীভাবে হল? যে যে ডাক্তার এই ভয়ানক কাণ্ডে জড়িত, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’ সেই সঙ্গে রোগীর জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও কাজের নিরাপত্তা দাবি করেন তিনি।
এন আর এস হাসপাতালে এই অপারেশন বিভ্রাটের খবর সামনে আসতেই তৎপর হয় সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ফোন করেন কুণালকে। এসএসকেএমে চিকিৎসার কথা জানান। কুণালের দাবি, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন ও উদ্যোগ নিয়েছেন, তার জন্য আমি বিধায়ক হিসাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। তিনি ইতিমধ্যে এন আর এস হাসপাতালের ঘটনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। অ্যাপেনডিক্স অপারেশন জরুরি ছিল কি না, কেন গল ব্লাডারের স্টোন বার করা হয়নি, অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।’ কিন্তু সরকারের উদ্যোগ সত্ত্বেও কেন এসএসকেএমে ভরতি হলেন না গোপালবাবু? কুণাল রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানান, বেসরকারি হাসপাতালে টাকা জমা দেওয়া হয়ে গিয়েছিল আগেই। সোমবার সকালে অপারেশনের টাইমও ঠিক হয়ে যায়। তাই এখন স্থানবদল করতে রাজি হননি রোগীর পরিবারের লোকজন।
এন আর এস হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাঃ সনৎকুমার ঘোষ বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। গোটা ঘটনার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। তদন্ত হবে।’ তবে এই ঘটনায় আম জনতার প্রশ্ন, বিধায়ক পৌঁছাতে পেরেছিলেন বলেই বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ল। যাঁদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই, তাঁরা কি হাসপাতালের ভুলের মাশুল দিয়েই চলবে!