নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রামের নন্দনায়কবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৯ নম্বর বুথে এ দিন ছিল বাড়তি নজর। কারণ এই বুথেই ভোট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সময় বদলেছে, বদলেছে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ও। এক সময় বিরোধী দলনেতা হিসেবে যে বুথে ভোট দিয়েছেন, এ বার রাজ্যের পালাবদলের ৬ মাস পরেই উপনির্বাচনে সেই একই জায়গায় তিনি ভোট দিতে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। আজ কোনো কনভয়ে নয় বরং তিনি ভোট দিতে পৌঁছলেন টোটোয় চড়ে। তাঁকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরও ছিল আঁটোসাঁটো। ভোট কেন্দ্রে পৌঁছতেই মানুষের ভিড় তাঁকে ঘিরে ধরে। মুখ্যমন্ত্রীকে ভোট দিতে আসতে দেখেই সবাই অবেগে ভাসেন এই দিন।
ভোট দিয়ে বেড়নোর সময় নির্বাচন কমিশনের নীতি অনুযায়ী ভোট কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে সাংবাদিকদের কাছে কোনো রকম বক্তব্য না রাখলেও নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। নির্বাচনী বিধি কার্যকর থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নিয়ম সকলেরই মেনে চলা উচিত। তিনি জানান, নন্দীগ্রামের একজন ভোটার হিসেবে এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাঁর দাবি, ২০১৬ সালে নন্দীগ্রাম থেকে তিনি ৮২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। এ বার সেই ব্যবধানের রেকর্ডও ছাপিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী। উপনির্বাচনে ভোটদানের হার নিয়েও আশাবাদী শুভেন্দু। তাঁর অনুমান, অন্তত ৮৫ শতাংশ মানুষ ভোট দেবেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটের আগের দিনই কমিশন নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয়কুমার মিশ্রকে সরিয়ে দেয়। মোট ৩২৩টি কেন্দ্রে চলছে ভোটগ্রহণ । মোট ভোটার ২লক্ষ ৬৬হাজার ৪১৯জন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ৭৯টি বুথকে ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার ছ’মাসের মধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হচ্ছে। সেই ভোটকে ঘিরেই ইতিমধ্যে ফের সরগরম হয়ে রয়েছে বাংলার রাজনীতি। বিরোধীদের সামনে লক্ষ্য, এই নির্বাচনে নিজেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখা ও শক্তি জানান দেওয়া। অন্যদিকে, বিজেপির নজর শুধু জয়েই থেমে নেই, নন্দীগ্রামে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ানোই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এই দুই বিপরীত রাজনৈতিক সমীকরণকে সামনে রেখেই আজ নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ চলছে।