নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রাপকের তালিকায় থাকা মৃত, ভুয়ো, অভারতীয় এবং অস্তিত্বহীন প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তাকে বাদ দিয়ে চালু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। তবে বাতিল নামের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আবেদনপত্র প্রকাশ এবং অনলাইন পোর্টাল চালুর ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বচ্ছতা বজায় রেখে শুধুমাত্র যোগ্য প্রাপকদের কাছেই এই সুবিধা পৌঁছে দিতে রাজ্যের পদক্ষেপগুলিও তুলে ধরেন তিনি। নতুনদের পাশাপাশি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সমস্ত প্রাপককেই অনলাইন বা অফলাইনে আবেদন করতে হবে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন সরকারি আধিকারিকরা। একই সঙ্গে আবেদনকারীর ‘ফ্যামিলি ডেটা’ বা পারিবারিক তথ্যও সংগ্রহ করবে রাজ্য প্রশাসন। কারণ, পরিবারগুলিকে কেন্দ্র এবং রাজ্যের অন্যান্য প্রকল্পে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে নয়া সরকারের। সব মিলিয়ে ১২ পাতার আবেদনপত্রের ‘ফরম্যাট’ প্রকাশিত হয়েছে এদিন। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের উপভোক্তার তো বটেই, তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর সহ নানা তথ্য দিতে হবে। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া বা ভোটাধিকার ট্রাইবুনালে বিচারাধীন থাকা নাগরিকদের তথ্য দেওয়ার জায়গা রয়েছে ফর্মে।
এদিন সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল সহ একাধিক পদস্থ আধিকারিককে নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিডিওদের সঙ্গেও ভার্চুয়াল কনফারেন্স করে স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকদের তালিকাটা পরীক্ষিত। কী দেখলাম? মহিলাদের জন্য প্রকল্প হলেও সুবিধা পেয়ে এসেছেন রাকিবুল শেখ। তার পিতার নাম মনসুর শেখ, তার বাড়ি শিয়ালমারা, পোস্ট অফিস বহরমপুরের রাধারঘাট। এপিক নম্বর এসএএফ১২৪২২৫৪। এটা শুধু উদাহরণ। ভূরি ভূরি অভিযোগ পেয়েছি। ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ গিয়েছে, এসআইআর ট্রাইব্যুনালে বা সিএএ-তে আবেদনও করেননি বা মৃত, ভুয়ো, অস্তিত্বহীন অন্তত ৩০ লক্ষ উপভোক্তা রয়েছে বলেই প্রাথমিক যাচাইয়ে পাওয়া যাচ্ছে। তাঁরা বাদ যাবেন।’
যাঁরা যোগ্য, তাঁরা কীভাবে আবেদন করবেন? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২ তারিখের মধ্যে যাঁদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে, তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ তারিখ মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ডিবিটি করা হবে। যাচাই সম্পূর্ণ হলেই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপক অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে শুরু করবেন। তবে এই প্রক্রিয়া যতদিন না শেষ হবে, ততদিন তাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে থাকবেন। ফলে তাড়াহুড়ো করে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর দরকার নেই।’ আজ বৃহস্পতিবার থেকে আবেদন এবং যাচাই প্রক্রিয়া চলবে ৯০ দিন। বিডিও, পুর ও পঞ্চায়েত কর্মী থেকে শুরু করে বিধায়কদের এই কাজে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদন করানোর জন্য ৩০ দিনের স্পেশাল ড্রাইভও দেওয়া হবে। ১৫, ১৬ এবং ১৭ মে’র প্রস্তাবিত জনকল্যাণ শিবিরেও আবেদনপত্র জমা নেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে।
সেই সঙ্গে, আগামী সোমবার থেকে সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে নির্দিষ্ট কার্ড দেওয়া হবে।