Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

বয়স মাত্র ২৩, রাজস্থানে সাধ্বী বৈশার মৃত্যু ঘিরে উঠছে প্রশ্ন

গেরুয়া বসনধারী সাধিকা জড়িয়ে ধরছেন এক পুরুষকে! গত বছরের জুলাইয়ে যোধপুরের এক আশ্রমে তরুণী সাধ্বী বৈশার সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়।

বয়স মাত্র ২৩, রাজস্থানে সাধ্বী বৈশার মৃত্যু ঘিরে উঠছে প্রশ্ন
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

জয়পুর: গেরুয়া বসনধারী সাধিকা জড়িয়ে ধরছেন এক পুরুষকে! গত বছরের জুলাইয়ে যোধপুরের এক আশ্রমে তরুণী সাধ্বী বৈশার সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়। তারপর এক বছরও কাটল না। তার আগেই ভুল ইঞ্জেকশনের কারণে মাত্র ২৩ বছর বয়সে মৃত্যু হল এই বিতর্কিত সন্ন্যাসিনীর। পশ্চিম রাজস্থানের এক ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে আসা তরুণীর অল্প বয়সেই ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সমর্পণ করার ঘটনা গত কয়েক বছর ধরেই নেটমহলে বেশ চর্চায় ছিল। তবে গত বছরের বিতর্কিত ভিডিও সাধ্বী বৈশাকে নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। পরে অবশ্য তিনি জানান যে, ওই পুরুষ তাঁর বাবা। আর তাঁকে অগ্নিপরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হোক। এবার তাঁর আকস্মিক মৃত্যুও রেখে গেল একঝাঁক প্রশ্ন, যার উত্তর খুঁজতে ধন্দে পড়েছেন তদন্তকরারীরা।

Advertisement

পুলিশ জানাচ্ছে, এক কম্পাউন্ডার এসে সাধ্বী বৈশাকে ইঞ্জেকশন দেন। তারপরই তিনি অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বৈশার বাবা বিরাম নাথের অভিযোগ, কম্পাউন্ডার তাঁর মেয়েকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ইঞ্জেকশন দিয়েছেন। সেই অভিযোগ প্রমাণের জন্য দেহের ময়নাতদন্ত করা দরকার। কিন্তু সে কাজে কিছুতেই রাজি হচ্ছেন না তিনি। এমনকী হাসপাতাল থেকে আশ্রমে নিয়ে আসার পর মেয়ের দেহ কোলে নিয়ে বিরাম গাড়িতেই বসেছিলেন। আশ্রমে ঢুকতে চাননি। পরে অন্য সাধুরা গিয়ে বৈশার দেহ আশ্রমে নিয়ে যান। বিরাম নাথকে প্রশ্ন করা হলে তিনি শুধু বলছেন, সুবিচার চাই! কিন্তু পুলিশকে সঠিকভাবে তদন্ত করতে না দিলে কীভাবে সুবিচার মিলবে? তাহলে কী এই মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর বাবাই জড়িত? এই সব প্রশ্নই এখন নানা মহলে ঘোরাফেরা করছে। যোধপুরের এসিপি ছবি শর্মা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে সাধ্বীর বাবা বিরাম নাথ যে অদ্ভুত আচরণ করছিলেন, তা সেখানে হাজির অনেকেই লক্ষ্য করেছেন।

শুক্রবার ছিল সাধ্বীর শেষযাত্রা। নাথ প্রথা মেনে সাধিকাকে গেরুয়া বসন পরিয়ে বসিয়ে রাখা হয় আশ্রমে। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন অন্তত ২০০ ভক্ত। সেই ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তবে দেহ ময়নাতদন্তের আগে কীভাবে শেষকৃত্য করা হবে, সেব্যাপারে ধন্দে পড়েছে পুলিশ। যে কম্পাউন্ডার ইঞ্জেকশন দিয়েছিলেন, তাঁকেও জেরা করা হয়েছে। যদিও তিনি কী জানিয়েছেন, সেটা তদন্তকারীরা খোলসা করেননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ