Bartaman Logo
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্রিকস: পুতিনের সঙ্গে বৈঠক মোদির, আমেরিকার অপছন্দের বিষয় নিয়েই আলোচনা দুই রাষ্ট্রনেতার

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। পেট্রল ক্রয় ক্রমেই শূন্য করে দিতে হবে। সামরিক সরঞ্জাম এবং তেল বিক্রি করে মস্কো যে অর্থ উপার্জন করে, সেই তহবিল ব্যয় করে ইউক্রেন যুদ্ধে।

ব্রিকস: পুতিনের সঙ্গে বৈঠক মোদির, আমেরিকার অপছন্দের বিষয় নিয়েই আলোচনা দুই রাষ্ট্রনেতার
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। পেট্রল ক্রয় ক্রমেই শূন্য করে দিতে হবে। সামরিক সরঞ্জাম এবং তেল বিক্রি করে মস্কো যে অর্থ উপার্জন করে, সেই তহবিল ব্যয় করে ইউক্রেন যুদ্ধে। অতএব রাশিয়া থেকে পণ্য কেনার অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থ জোগান দেওয়া। আমেরিকা এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে বারংবার। কিন্তু ভারত সেই হুমকিকে আমল দিতে নারাজ। বরং রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক চিরাচরিত বন্ধুত্ব যে বজায় থাকবেই, সেটি প্রতিষ্ঠা করতেই সচেষ্ট। সেই কারণেই হয়ত ব্রিকস সম্মেলনের আগেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে ঠিক যা যা আমেরিকার অপছন্দ, সেই ইস্যুগুলিতেই সহমত হলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। ভারত আরও এস ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ডিস্টেম কিনবে, সুখোই ৫৭ ফাইটার জেট এবং ব্রহ্মস মিসাইল ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ সংক্রান্ত আলোচনাও হল। প্রধানমন্ত্রী মোদি আমেরিকা বিরোধী কোনও অবস্থান স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেননি। কিন্তু বৈঠক শেষে পুতিন কঠোর বার্তা দিলেন আমেরিকাকে। বললেন, জি সেভেন নামক যে শক্তিশালী পশ্চিমী জোট রয়েছে, সেই জোটের ভূমিকা কী বিশ্ব অর্থনীতিতে? যারা ১০০ শতাংশ শুল্ক জরিমানার হুমকি দিচ্ছে তাদের জানা দরকার যে, গত ৫ বছরে বিশ্বের ৪০ শতাংশ জিডিপি উৎপাদন করেছে ব্রিকস রাষ্ট্রগুলি। আর তথাকথিত জি সেভেন করেছে মাত্র ২৯ শতাংশ। বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুতিন। বলেছেন, আমরা ৩০ হাজার আর্থিক নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে এসেছি। এসব হুমকি আর এখন কেউ গুরুত্ব দেয় না। এটা অন্য পৃথিবী। এদিকে ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্য নিয়ে যখন জয়গান গাইছে বিজেপি, তখন বিরোধী এবং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলছে, এর ফলে ভারতের কোন স্বার্থ চরিতার্থ হচ্ছে? ভারত কী পাচ্ছে? রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ভারত হতে পারেনি আজও। নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার গ্রুপের সদস্যও হতে পারেনি। চীন লাগাতার ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করেছে। এখনও সেই অবস্থান বদলায়নি। বিরোধীদের বক্তব্য, চীন এবং রাশিয়া নীতিগত ও বাণিজ্যগতভাবে মার্কিন বিরোধী। ভারতকে নিজেদের গোষ্ঠীতে রেখে তারা নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত করছে। কিন্তু ভারতের কী লাভ হচ্ছে? সেই তুলনায় আমেরিকার সঙ্গে ভারত বেশি করে সখ্য স্থাপন করলেই তো লাভ বেশি। চলতি ব্রিকস সম্মেলনেও ভারত কী পাবে? বরং আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আরও বিলম্বিত হয়ে যাচ্ছে. যা ভারতেরই ক্ষতি করবে। ব্রিকসের যৌথ ঘোষণাপত্র আজ অথবা আগামীকাল প্রকাশিত হবে। আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। আজ চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিংপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে মোদির।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ