সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: চা বাগানের সহকারী ম্যানেজারকে পরিকল্পিত খুন! ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাগানেরই এক শ্রমিককে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এমন ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ফাঁসিদেওয়া ব্লকের জয়ন্তিকা চা বাগানের বাঁশ লাইন ডিভিশনে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম এলথ্রুস এক্কা।
দুপুরের খাবার খেয়ে বাগানে পাতা তোলার কাজ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন সহকারী ম্যানেজার নীলাঞ্জন ভদ্র (৪৫)। নিজেই বাইক চালিয়ে চা বাগানের ১২ ও ১৪ নম্বর সেকশন বরাবর রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। পিছন থেকে তাঁর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। এতেই বাইক থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। ফোন করতে পকেট থেকে মোবাইল বের করলেও আর সুযোগ পাননি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে বিষয়টি চা বাগানের শ্রমিকদের নজরে আসে। বাগানের অফিসের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিসে খবর দেয়। ফাঁসিদেওয়া থানা থেকে বিশাল পুলিস বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। নকশালবাড়ির এসডিপিও নেহা জৈনও আসেন। ঘটনাস্থলটি ঘিরে দেওয়া দেয়। খবর দেওয়া হয় ফরেন্সিক টিমকে। তাঁরা এসে নমুনা সংগ্রহ করার পর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মৃত নীলাঞ্জনবাবু আলিপুরদুয়ার জেলার হামিল্টনগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন। বছর চারেক আগে জয়ন্তিকা চা বাগানের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। মা, স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে বাগানের কোয়ার্টারেই থাকতেন। এদিন বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে নিজেই বাইক চালিয়ে পাতা তোলার কাজ পরিদর্শন করতে রওনা হন। পরে চা শ্রমিকরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাগানের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের ভিড় উপচে পড়ে। ভিড় থেকে এক যুবক খুনের বিষয় নিয়ে ফিসফিস করতেই পুলিসের সন্দেহ হয়। তাঁকে জেরা করতে জোরগলায় তিনি খুনের কথা স্বীকার করেন। পুলিস তাঁকে হেফাজতে নেয়। পরে পুলিস নিশ্চিত হয় আটক যুবকই খুন করেছে। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও উদ্ধার করে পুলিস।
৭০ হাজার টাকা জালিয়াতিতে সহকারী ম্যানেজার তাঁকে ফাঁসিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। যদিও পুলিস সবদিক খতিয়ে দেখছে। বাগানের ম্যানেজার অরবিন্দ মিশ্র বলেন,কারও সঙ্গে নীলাঞ্জনবাবুর কোনও ঝামেলা ছিল না। এমনকী তাঁকে নিয়ে আমাদের কাছে কেউ কোনও অভিযোগও করেনি।
এদিকে, বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন ছেলে শুভাশিস। মাস খানেক আগেই তিনি শিলিগুড়িতে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ পেয়েছেন। বাবার খুন নিয়ে বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাননি। এসডিপিও বলেন, দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কার্শিয়াংয়ের অতিরিক্ত পুলিস সুপার অভিষেক রায় রাতে জানিয়েছেন, এলথ্রুস এক্কা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি খুনের কথা স্বীকার করেছেন। খুনে ব্যবহার করা অস্ত্রটিও উদ্ধার হয়েছে। টাকাপয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়েই ঝামেলা বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।