বিশেষ সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের পর সারা দেশে বন্দিত হচ্ছেন ভারতের মহিলা ক্রিকেটাররা। নিজ নিজ রাজ্যে সংবর্ধিত হচ্ছেন স্মৃতি মান্ধানা-রিচা ঘোষরা। ব্যতিক্রম উমা ছেত্রী। অসম তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম মহিলা হিসেবে খেলেছেন বিশ্বকাপে। মেগা আসরে খুব বেশি সুযোগ না পেলেও কাপজয়ী হরমনপ্রীত ব্রিগেডের সদস্য তিনিও। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হয়ে গত বৃহস্পতিবার নিজ রাজ্যে ফেরার পর অবহেলিতই থেকেছেন উমা। গুয়াহাটি বিমানবন্দরে অসমের ক্রীড়ামন্ত্রী তো দূর অস্ত, কোনও সরকারি আধিকারিক পর্যন্ত তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন না। এমনকী রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার কর্তাদেরও দেখা মেলেনি। কেবলমাত্র গোর্খা সম্প্রদায়ের হাতেগোনা কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন ঘরের মেয়েকে বরণ করতে।
উমা ছেত্রীর প্রতি অসমের বিজেপি সরকারের উপেক্ষা সত্যিই বিস্ময়কর। তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিপাকে পড়ে শেষ পর্যন্ত শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চালায় অসম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবি, বিমানবন্দরের লবিতে তারা নাকি উমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে! পাশাপাশি রবিবার এক অনুষ্ঠানে সংবর্ধনার পাশাপাশি তুলে দেওয়া হয় ৫১ লক্ষ টাকার চেক।
তবে সরকারি গাফিলতির কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা। তিনি বলেন, ‘উমা ছেত্রী অসমের গর্ব। বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারকে বিমানবন্দরে স্বাগত না জানানোটা আমাদের বড় ভুল। এর জন্য, একজন অসমবাসী হিসেবে ক্ষমা চাইছি।’ উল্লেখ্য, উমার প্রতি উপেক্ষার ইস্যুতে সরকারের সমালোচনায় সরব হয় গোর্খা সংগঠন এবং বিভিন্ন বিরোধী দল। তারপরই ড্যামেজ কন্ট্রোলে শনিবার উমার বাড়িতে গিয়েছিলেন রাজস্বমন্ত্রী কেশব মহন্ত। ক্রীড়ামন্ত্রী নন্দিতা গার্লোচা তড়িঘড়ি উমাকে তাঁর নিজের শহর কান্দুলিমারিতে গিয়ে সম্মান জানান। অসম জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরিনজ্যোতি গগৈ বলেন, ‘উমা মহিলা বিশ্বকাপজয়ী দলের একজন সদস্য। দুঃখের বিষয়, নিজের রাজ্য অসমে যোগ্য সম্মান পাননি তিনি।’
উমার ক্রিকেট জীবনের গল্পটাও বেশ আকর্ষক। তিন বছর বয়সে দুর্গাপুজায় মায়ের থেকে একটি প্লাস্টিকের ব্যাট উপহার পেয়েছিলেন তিনি। সেটা দিয়েই খেলা শুরু। গোলাঘাট জেলার বোকাঘাটের কৃষক পরিবারে জন্ম উমার। চরম আর্থিক অনটনেও স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন। তারই পুরস্কার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন লেখা সোনার মেডেল।