


গুয়াহাটি: রাত পোহালেই বিধানসভা নির্বাচন অসমে। হিমন্ত বিশ্বশর্মার রাজ্যে ভোটগ্রহণ আগামী কাল, ৯ এপ্রিল। ১২৬ কেন্দ্রে লড়বেন মোট ৭২২ জন প্রার্থী। তার মধ্যে মহিলা প্রার্থী ৫৯ জন। বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে উত্তরপূর্বের রাজ্যে ঘুরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সহ বিজেপির একাধিক হেভিওয়েট নেতা। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও রাজ্যজুড়ে চরকিপাক কেটেছেন। তাও রাজ্যবাসী থেকে সংবাদমাধ্যমস সকলের নজর কেড়েছেন দু’জন—কুংকি চৌধুরী ও জ্ঞানেশ্রী বোরা। অবাক করার বিষয়, দুজনেই বিজেপির মনোনীত প্রার্থী নন। সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া দুটি আঞ্চলিক দল, জাতীয় পরিষদ ও রাইজর দলের প্রার্থী। গুয়াহাটি সেন্ট্রাল ও মারিয়ানি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কুংকির বয়স মাত্র ২৭। পড়াশোনা করেছেন লন্ডনে। সেখান থেকে ফিরে এসেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। গুয়াহাটিতে কুংকির প্রতিদ্বন্দ্বী শাসকদল বিজেপির বিজয় কুমার গুপ্ত। বয়স বা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় হিমন্তের কাছে নেহাতই শিশু এই কুংকি। তাও তাঁকে নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। নেপথ্যে তাঁর পারিবারিক পরিচিতি। কুংকির মায়ের দাদু বাহাদুর গুরুং ছিলেন সংবিধান প্রণয়নকারী গণপরিষদের সদস্য। অনেকেই বলছেন, তাঁর রক্তে রাজনীতি। কুংকি নিজেও প্রচারে বেরিয়ে আম জনতার সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন অনায়াসে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, জিতলে জল জমার সমস্যা মেটাবেন। কৃত্রিম বন্যা পরিস্থিতি হতে দেবেন না। কর্মসংস্থান বাড়াবেন। কুংকির দাবি, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁর হয়ে প্রচার সেরে দিচ্ছেন। আসলে, বিপক্ষের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগের অভিযোগ এনে সরব হয়েছেন হিমন্ত। তাঁর দাবি ছিল, কুংকির মা সুজাতা গোমাংস ভক্ষণ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োও প্রকাশ করেন বিজেপি নেতারা। কুংকি অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন। ওই ভিডিয়ো ভুয়ো বলে দাবি করে থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বিপক্ষ কোনো প্রার্থীকে নিয়ে অভিযোগ করলে, তিনি তো চর্চায় উঠবেনই। এছাড়া কুংকিকে নিঃশর্ত সমর্থনের ঘোষণা করেছে সর্বভারতীয় গোর্খা লিগ।
বিজেপিশাসতি অসমের অপর নজরকাড়া বিরোধী প্রার্থী জ্ঞানেশ্রী বোরা। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে পিএইচডি। কলেজে সহকারী অধ্যাপকের চাকরি ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন। এমন উচ্চশিক্ষিত কেউ বিধায়ক হবেন, এমন আশা অনেকেরই। জ্ঞানেশ্রী লড়ছেন বিজেপির রূপজ্যোতি কুর্মির বিরুদ্ধে। লড়াই মোটেও সহজ নয়। কারণ, রূপজ্যোতির পরিবার ১৯৯১ সাল থেকে মারিয়ানি আসনটি ধরে রেখেছে। যদিও ২০০৪-’০৬ সালে দু’বছরের বিরতি ছিল। এই ইস্যুকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বলেন, ‘মারিয়ানির মানুষ স্থানীয় প্রার্থীকে ভোট দিন।’ জ্ঞানেশ্রীকে বহিরাগত বলেই ইঙ্গিত তাঁর। তবে জনসংযোগে ভরসা রাখছেন রাইজর দলের প্রার্থী। প্রচারে বেরিয়ে বলছেন, পানীয় জলের অভাব ও গ্রামীণ রাস্তার দুরবস্থা দূর করাই তাঁর লক্ষ্য।