নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: খনি অঞ্চলে আর যত্রতত্র কয়লা পোড়ানো যাবে না। কয়লা পোড়ালেই ৫০০-৫০০০টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। নতুন বছরের শুরুতেই আসানসোল পুরসভা এলাকায় এই নিয়ম লাগু হতে চলেছে। হোটেল, ম্যারেজ হল, মিষ্টির দোকানের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একইভাবে জঞ্জাল বা শুকনো পাতায় আগুন লাগালে ৫০টাকা জরিমানা দিতে হবে। অভিযোগ জানানোর রাস্তাও খুলে দিচ্ছে পুরসভা। পুরসভার নির্দিষ্ট ফোন নম্বর ও ই-মেল আইডিতে অভিযোগ জানানো যাবে। শহরে গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পার্কিং-ফিও দ্বিগুণ করার ভাবনা রয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য শুধু জরিমানা করাই নয়, শহরবাসীর জন্য রয়েছে সুখবর। ১জানুয়ারি থেকে পুরসভা নাইট সার্ভিস বাস চালু করছে। একটি বাস আসানসোল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে বার্নপুরে, দ্বিতীয় বাসটি স্টেশন থেকে কুলটি হয়ে দিসেরগড় যাবে।
Advertisement
পুরসভার মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, শহরবাসীর সাহয্যেই আমরা বায়ুদূষণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। এখনও কিছু মানুষ উনুনে কয়লা পুড়িয়ে বায়ু দূষিত করছে। তা নিয়ন্ত্রণ করতেই জরিমানা লাগু করা হচ্ছে। কয়লা, বালি, ছাইবোঝাই গাড়িগুলি শহরের জনবহুল এলাকা দিয়ে যাতে যাতায়াত না করে সেদিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। আমরা জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই দু’টি নাইট সার্ভিস বাস চালু করছি। রাজ্যের ছ’টি শহরে বায়ু দূষণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তারমধ্যে অন্যতম আসানসোল ও দুর্গাপুর। যদিও গতবছর থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় সরকারের তালিকায় কিছুটা উপরের দিকে উঠে এসেছে খনি শহর আসানসোল। এখানে নাড়া পোড়ানোর সমস্যা বেশি নেই। এখানে দূষণের বড় কারণ কয়লা পোড়ানো। সারা বছরই ভোর হলে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় সাইকেলে করে অবৈধ কয়লার বস্তার যাতায়াত দেখা যায়। অনেকক্ষেত্রে খাদান থেকে কাটা সেই কাঁচা কয়লা ফাঁকা জায়গায় পোড়ানো হয়। তাতে বাতাস ব্যাপকভাবে দূষিত হয়। কুলটি থেকে আসানসোল, জামুড়িয়া বেশিরভাগ জায়গাতেই খাবারের দোকানে কয়লার উনুনে রান্না করা হয়। যার জেরেও দূষণ হয়। তা নিয়ন্ত্রণ করতেই এবার জরিমানা করা হবে। দ্রুত যাতে অভিযোগ জানানো যায় সেজন্য জানুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই পুরসভা টোল ফ্রি নম্বরও চালু করছে। পুরসভার এই উদ্যোগে খুশি পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের দাবি, খনি অঞ্চলে কয়লা পোড়ানো বন্ধ হলে দূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। যদিও হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একাংশের দাবি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে যত খাঁড়া নামছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর! রাঘববোয়ালরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, শহরের মধ্যেই অবৈধ কয়লা কিনে বহু ইটভাটা চলছে। সেখান থেকেও ব্যাপকভাবে দূষণ হয়। তাদের জন্য কেন জরিমানা আরোপ হচ্ছে না? তাঁদের আরও অভিযোগ, আসানসোল পুরসভার ১৬নম্বর ওয়ার্ডে অবৈধ কয়লা কেটে জাতীয় সড়কের পাশে বিভিন্ন ফ্যাক্টারিতে তা পোড়ানো হয়। বিপুল দূষণ হওয়ার পরও কেন নীরব কর্তৃপক্ষ? পার্কিং চার্জ বাড়ানো হলে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং শুরু হবে বলেও অনেকের আশঙ্কা।



