Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আসানসোলে ধস কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে প্যাকেজের প্রস্তাব

আসানসোলে ধস কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে প্যাকেজের প্রস্তাব
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ধস কবলিত এলাকার মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য আরও আকর্ষণীয় প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব গৃহীত হল প্রশাসনিক বৈঠকে। পরিবার পিছু একটি নয়, দু’টি করে ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাঁরা পুনবার্সনের জন্য তৈরি ফ্ল্যাটে আসবেন তাঁদের দু’বছর দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি হিসেবে টাকা দেওয়া হবে। মালপত্র স্থানান্তরের জন্য মিলবে ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও ঘরভাড়া বাবদ দেওয়া হবে আরও এক লক্ষ টাকা। এই বিশেষ প্যাকেজ প্রস্তাব নিয়ে শনিবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হল আসানসোল সার্কিট হাউসে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী মলয় ঘটক, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি, এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত, জেলাশাসক পোন্নমবলম এস সহ এডিডিএ ও প্রশাসনের আধিকারিরা। নতুন প্যাকেজ কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রক অনুমোদন করলেই বিশেষ আর্থিক সুবিধা পেতে চলেছেন খনি অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। নতুন এই প্রস্তাবের বল এখন কেন্দ্রের কোর্টে ফেলল প্রশাসন। 
Advertisement
জেলাশাসক বলেন, রানিগঞ্জ পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়ে এদিন বৈঠক হয়েছে। এই পুনর্বাসন প্রকল্পের প্যাকেজ ২০০৯ সালের তৈরি হয়েছিল। আমরা পুরনো প্যাকেজের পরিবর্তে নতুন একটি প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব করেছি। তা রাজ্য সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রকের পাঠানো হবে। তারা সম্মত হলেই নতুন প্যাকেজ গৃহীত হবে। 
জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সব সময়ে চান দরিদ্র মানুষদের বাড়তি সুবিধা দিতে। ২০০৯ সালের প্যাকেজে পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বাড়তি সুবিধা দিতে আমরা প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। দেখি, এবার কেন্দ্র কী সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রথমে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা তার পর থেকে ইসিএলে আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, অণ্ডাল জুড়ে বেপরোয়া কয়লা উত্তেলন হয়। যার জেরে একের পর এক ধসের ঘটনা সামনে  আসে। ধস কবলিত এলাকায় মানুষের পুনর্বাসনের জন্য সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। সার্ভে শেষে ২০০৯ সালে প্রায় ৩০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ধস কবলিত এলাকার বৈধ জমি থাকা ও ভূমিহীন বাসিন্দাদের দু’রকম প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। তারপর ১৫ বছরে দামোদর দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেলেও এই পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। 
একটি পরিবারও পুনর্বাসন প্যাকেজ নেয়নি। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় কেন্দ্রীয় সংস্থা ইসিএল এডিডিএকে টাকা না দেওয়ার জন্য কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। অন্যদিকে ইসিএলের পক্ষ থেকে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট না পাওয়ায় টাকা দেওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়। এই টানাটানির মধ্যে উত্তরাখণ্ডের যোশী মঠের ধস নামে। তা দেখে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী রানিগঞ্জ পুনবার্সন প্রকল্প শেষ না করা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। পাশাপাশি পুনর্বাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বলেন। 
ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ শেষ হলেও ২০০৯ সালের কম আর্থিক সুবিধার প্যাকেজে মানুষ নিজেদের এলাকা ছেড়ে আসতে চাইছেন না। তাই এবার আরও বেশি আর্থিক সুবিধা যুক্ত পুর্নবিন্যাস প্যাকেজের প্রস্তাব করা হল। প্রস্তাবে এও আছে, যদি কোন পরিবার দু’টি ফ্ল্যাট না নিয়ে একটি ফ্ল্যাট নেয় তাহলে তাঁকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। ১০ হাজার ফ্ল্যাট প্রস্তুত আছে। কেন্দ্র নতুন প্রস্তাবে সম্মত হলে ৫হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন দেওয়া যাবে।  প্রশাসনের যুক্তি, শিল্পাঞ্চলে পুনর্বাসন প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত জমি পাওয়া সময় সাপেক্ষ।
সম্পর্কিত সংবাদ