Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গোপালকে ইস্তফা দিতে বলুন, বনগাঁর কাউন্সিলারদের ডেকে কড়া বার্তা মন্ত্রীর

‘দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দল যে নির্দেশ দিয়েছে, তা মেনে চলতে হবে সব কাউন্সিলারকে। দল যদি কাউকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়, তাহলে সেই নির্দেশ সকলকে মেনে নিতে হবে।

গোপালকে ইস্তফা দিতে বলুন, বনগাঁর কাউন্সিলারদের ডেকে কড়া বার্তা মন্ত্রীর
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দল যে নির্দেশ দিয়েছে, তা মেনে চলতে হবে সব কাউন্সিলারকে। দল যদি কাউকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়, তাহলে সেই নির্দেশ সকলকে মেনে নিতে হবে। এক্ষেত্রে পক্ষে বা বিপক্ষে যাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই।’— বনগাঁ পুরসভার কাউন্সিলারদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল তৃণমূল। বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান বদল নিয়ে যে ডামাডোল চলছে, তাতে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের কড়া বার্তা, দলের জন্যই কেউ কাউন্সিলার, কেউ চেয়ারম্যান হয়েছেন। ফলে দল বললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পদ থেকে সরে যেতে হবে। চেয়ার আটকে রাখা দলসুলভ আচরণ নয়। 

Advertisement

ঘটনাচক্রে আজ, বুধবার বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান কেন্দ্রিক ভোটাভুটি রয়েছে। ঠিক তার ২৪ ঘণ্টা আগে তৃণমূল ভবন থেকে সুস্পষ্ট বার্তা দিয়ে দেওয়া হল। গোপাল শেঠকে বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে গোপাল অনুগামী ও বিপক্ষের কাউন্সিলার আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত গোপালের প্রতি আস্থা কিংবা অনাস্থা প্রদর্শনের ভোট রয়েছে আজ, বুধবার। তার আগে তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির উদ্যোগে মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। মূলত গোপালপন্থী কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা তৃণমূলের শীর্ষ নেতা ফিরহাদ হাকিম। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। বনগাঁর কাউন্সিলারদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, গণ্ডগোলের পরিস্থিতি একেবারেই কাম্য ছিল না। দল যখন মনে করেছে গোপালকে সরিয়ে অন্য কাউকে চেয়ারম্যান করবে সেটাই শিরোধার্য। সবাইকে মেনে নিতেই হবে। 
সূত্রের খবর, কাউন্সিলারদের বলা হয়েছে আপনারা গোপাল শেঠকে গিয়ে বিষয়টি বোঝান। ইস্তফা দিতে বলুন। পাল্টা গোপালপন্থী কাউন্সিলারদের অভিযোগ, আমাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা হল। এর বিচার কি হবে? রাজ্য নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন। নেতৃত্ব বৈঠকে বলেছেন, দলের জনপ্রতিনিধির বাড়িতে এভাবে হামলা হবে, এটা কখনই কাঙ্ক্ষিত নয়। প্রত্যেককে চিহ্নিত করে যথাযথ শাস্তি হোক। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে দলের শীর্ষ মহল থেকে জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তাকে ফোন করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলা হয়েছে। একজন পুর প্রতিনিধির বাড়িতে যারা হামলা করে, তারা আগামী দিনে মন্ত্রীর বাড়িতেও হামলা করতে পারে, স্বাভাবিকভাবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না বলেও বৈঠকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিনের এই বৈঠক প্রসঙ্গে গোপালপন্থী তৃণমূল এক কাউন্সিলারের স্বামী বলেন, মিটিং হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেব। দল আমাদের অসহায়তার কথাটা গুরুত্ব দিয়ে দেখুক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ