Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পথ দুর্ঘটনায় হাত অকেজো, অবসাদে আত্মঘাতী এএসআই

বডিগার্ড লাইনসের ছাদে ওঠার সিঁড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল পুলিস বারাকে।

পথ দুর্ঘটনায় হাত অকেজো, অবসাদে আত্মঘাতী এএসআই
  • ৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বডিগার্ড লাইনসের ছাদে ওঠার সিঁড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল পুলিস বারাকে। গন্ধের উৎসস্থল খুঁজতে ছাদের দিকে ওঠেন কয়েকজন। কিছুটা ওঠার পর মাথায় একপ্রকার বজ্রাঘাত পুলিস কর্মীদের। দেখতে পান, সিঁড়ির জানলা থেকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন তাঁদেরই এক সহকর্মী। তিনি কলকাতা পুলিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর পদে কর্মরত। দেহটিতে পচন ধরে গিয়েছে। প্রায় পচাগলা দেহ। তাঁর নাম সুখলাল মুর্মু। বুধবার দুপুরে দেহটি উদ্ধার হয়েছে। পাঠানো হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিস। দেহ পাঠানো হচ্ছে ময়নাতদন্তে।

Advertisement

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছ, কলকাতা পুলিসের চতুর্থ ব্যাটেলিয়নে পোস্টিং ছিল সুখলাল মুর্মুর। তিনি পুরুলিয়ার মানবাজার থানা এলাকার পেদ্দা হরিপুরের বাসিন্দা। সম্প্রতি পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন। বাঁ হাতের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। অকেজো হয়ে পড়ে হাতটি। এরপর সুখলালবাবুকে ডেপুটেশনে তৃতীয় ব্যাটেলিয়নে স্থানান্তর করে কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, মে মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত তিনি ডিউটি করেছিলেন। তারপর টানা দু’দিন তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁর সহকর্মীরা ওয়াটগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। নিখোঁজ ডায়েরি করে পুলিস। সুখলালবাবুর মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে দেখা যায়, বারাকের মধ্যে তাঁর ঘরের মধ্যেই রয়েছে ফোনটি। এরপর ন’দিন কেটে যায়। কিন্তু সুখলালের কোনও সন্ধান পায় না পুলিস। 
বুধবার দুপুরে আচমকাই সুখলালের দেহের খোঁজ মেলে। এক কনস্টেবল প্রথম দেখতে পান গলায় গামছার ফাঁস জড়ানো অবস্থায় ঝুলন্ত দেহটি। বারাকে যায় ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিস। উদ্ধারকাজের ভিডিওগ্রাফি হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিস। বৃহস্পতিবার তাঁদের কলকাতায় পৌঁছনোর কথা। এরপর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হবে। এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। প্রাথমিকভাবে পুলিসের অনুমান, আত্মঘাতী হয়েছেন এএসআই সুখলাল। মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিস জানতে পারে, একটি ট্রলি ব্যাগের মধ্যে নিজের সব জামাকাপড় গুছিয়ে রেখে দিয়েছিলেন সুখলাল। তার ভিতর একটি সুইসাইড নোটও ছিল। পুলিস তা উদ্ধার করে। কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনার (বন্দর) হরিকৃষ্ণ পাই বলেন, ‘সম্প্রতি পুলিসকর্মীর একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তার জেরে বাঁ হাতে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন। কাজকর্মে আংশিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। অবসাদে ভুগছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছিলেন না। এমনটাই জানা গিয়েছে।’ 
এর আগে খাদ্যভবনের বারাকে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন এক পুলিসকর্মী। এছাড়া বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের সামনে নিজের রাইফেল থেকে এলোপাথারি গুলি চালিয়ে এক পথচারীকে হত্যা করেছিলেন কলকাতা পুলিসের এক কর্মী। তারপর নিজেও আত্মঘাতী হন। এসব ঘটনায় পুলিসের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তৎকালীন পুলিস কমিশনারের নির্দেশে নিয়মিত সমস্ত কর্মচারির মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ