নয়াদিল্লি: ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের প্রথম দিনেই ব্যাটিংয়ের সময় পায়ে চোট পেয়েছিলেন ঋষভ পন্থ। চিড় ধরা পড়েছিল স্ক্যান রিপোর্টে। তা নিয়েই টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ক্রিজে আসেন তিনি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর চোট পাওয়া ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে পরিবর্ত পাওয়ার নিয়ম চালুর পক্ষে মন্তব্য করেন। কিন্তু তা ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসের মনঃপূত হয়নি। বিষয়টিকে তিনি ‘চূড়ান্ত হাস্যকর’ অ্যাখ্যা দেন। আর এটাই মানতে পারছেন না রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ওভালে ক্রিস ওকসের চোট নিয়েও ক্রিজে যাওয়া সেজন্যই ইংল্যান্ডের কাছে শিক্ষণীয় হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
‘অ্যাশ কি বাত’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে স্টোকসকে রীতিমতো একহাত নিয়ে অশ্বিন বলেন, ‘প্রবাদ আছে— যেমন কর্ম তেমন ফল! চতুর্থ টেস্টে পন্থের চোট নিয়ে খেলাকে অনেকে বাঁকা চোখে দেখছিল। স্টোকস তো গম্ভীরের পরিবর্ত প্লেয়ার প্রচলনের ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছিল। যেন এটা রসিকতা। আমি কিন্তু স্টোকসের ক্রিকেটীয় দক্ষতা ও মানসিকতার ফ্যান। তবে ওর উচিত ছিল ভেবেচিন্তে উত্তর দেওয়া।’
পঞ্চম টেস্টের শেষদিনে কাঁধের হাড় সরে যাওয়া সত্ত্বেও ক্রিস ওকস ব্যাট করতে নেমেছিলেন। সেটাকে তুলে ধরেছেন অশ্বিন। তাঁর মতে, ‘দলকে জেতানোর জন্য জীবন বাজি রেখে ক্রিজে এসেছিল ওকস। উল্টোদিকে ওর উপস্থিতিতে অ্যাটকিনসন জয়ের কাছাকাছি টেনে এনেছিল ইংল্যান্ডকে। অ্যাটকিনসন যাতে স্ট্রাইক পায় সেজন্য সজাগ ছিল ওকস। ওকে টুপি খুলে সেলাম। দলের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার এই মানসিকতা প্রশংসনীয়।’
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ভন ক্রিকেটের নিয়মে পরিবর্তন আনা উচিত বলে জানান। সেই প্রসঙ্গ তুলে অশ্বিন বলেন, ‘ভন বলেছেন যে পরিবর্ত ক্রিকেটারকে খেলার অনুমতি দেওয়া উচিত। আমার বক্তব্য একটাই। উল্টোদিকের দলে যখন একই সমস্যা দেখা দেয়, তখন সেটাকে উপেক্ষা করা কেন? পন্থের মতো ক্রিকেটার চোট পেলে দল কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেটা বোঝা উচিত ছিল। আর তোমরাও তো এবার পরিবর্ত পাওয়া উচিত বলে মনে করছ। স্টোকস নিজের মতামত দিতেই পারত। তবে রসিকতা বা হাস্যকর শব্দগুলো ব্যবহার করা ঠিক হয়নি। কিছু বলার আগে তাই ভাবা দরকার। নাহলে ফল ভুগতেই হয়।’