ব্রতীন দাস, মালদহ: তৃণমূল আমলে আড়াই কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ হলেও কাজ হয়নি। ফলে চৈতন্যদেবের স্মৃতি বিজড়িত গুপ্ত বৃন্দাবন মালদহের রামকেলিতে চরম বেহাল দশা পবিত্র অষ্ট কুণ্ডের। মহাপ্রভুর অন্যতম কৃপাধন্য রূপ-সনাতনকে রাজকার্যে ধরে রাখতে গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহ মন্দির চত্বরে কুণ্ডগুলি খননের নির্দেশ দেন। সেইমতো রূপ-সনাতনের প্রতিষ্ঠিত রাধা-মদনমোহন ও বলরাম-রেবতী বিগ্রহের মন্দিরের চারপাশে তৈরি হয় শ্যাম কুণ্ড, রাধা কুণ্ড, চিত্রা কুণ্ড, ললিতা কুণ্ড, বিশাখা কুণ্ড, ইন্দুলেখা কুণ্ড, চন্দ্রাবতী কুণ্ড ও সুদেবী কুণ্ড। ভক্তদের কাছে এই অষ্ট কুণ্ডের জল অত্যন্ত পবিত্র। যাঁরা বৃন্দাবনে যেতে পারেন না, তাঁরা ছুটে আসেন গৌড়ের রামকেলিতে। রাধা কুণ্ড কিংবা শ্যাম কুণ্ডের জল মাথায় দিয়ে মন্দিরের বিগ্রহ দর্শন করেন। কেউ কেউ আবার কুণ্ড পরিক্রমা করেন। কিন্তু বর্তমানে সবক›টি কুণ্ড কচুরিপানায় ঢেকেছে। চারদিকের নোংরা জল এসে পড়ছে কুণ্ডে। ফলে ওই জলে স্নান করার উপায় নেই। তাছাড়া চারপাশের যা অবস্থা, কুণ্ড পরিক্রমা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন ভক্তরা। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ তাঁরা।
মন্দিরের সেবাইত মদনমোহন পানিগ্রাহীর গলাতেও আক্ষেপের সুর। বলেন, অষ্ট কুণ্ডের অবস্থা এতটাই বেহাল যে, ভক্তরা এসে কুণ্ডের জলে স্নান করতে পারেন না। পাড় বাঁধানোর কথা থাকলেও হয়নি। বলা হয়েছিল, ভক্তরা যাতে অষ্ট কুণ্ড পরিক্রমা করতে পারেন, সেজন্য বাঁধিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু হয়নি। রাত্রি নিবাস তৈরি না হওয়ায় দূরদুরান্ত থেকে ভক্তরা রাতের বেলায় মন্দিরে এসে পৌঁছালে নাটমন্দিরে খোলা জায়গায় রাত কাটাতে হয় তাঁদের। গেট না হওয়ায় অবাধে মন্দির চত্বরে ঢুকে পড়ছে গোরু, ছাগল কিংবা কুকুর। সেসব ঠেকাতে কখনও কখনও বাঁশ বেঁধে রাখতে হচ্ছে।
রামকেলি মাতৃ গয়া নামেও পরিচিত। কথিত আছে, ১৪ বছর বনবাস কালে রামচন্দ্র সীতাকে নিয়ে গঙ্গার পাড় ধরে রামকেলিতে এসেছিলেন। সীতাদেবী এখানেই মাতৃকুলের পিণ্ডদান করেছিলেন। বলা হয়, গয়ায় যেমন গয়াসুরের উদ্দেশে পিতৃকুলের পিণ্ডদান হয়ে থাকে। রামকেলিতে তেমনই গয়েশ্বরীর উদ্দেশে মাতৃকুলের পিণ্ডদান হয়। আজও বহু মহিলা মাতৃকুলের পিণ্ডদান করতে রামকেলি আসেন। এখানেই রয়েছে মহাপ্রভুর পায়ের ছাপ। যা দেখার জন্য বহু মানুষ আসেন।
ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, তৃণমূল আমলে রামকেলির জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও কোনো কাজ হয়নি। আমরা বিষয়টি নিয়ে জানতে চেয়েছি, সেখানে কত টাকার বিল তোলা হয়েছে। আমাদের সরকার রামকেলিকে সাজাবে। মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজড়িত ওই জায়গাটিকে আমরা পর্যটন মানচিত্রেও তুলে ধরার চেষ্টা করছি।