Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রাকের ইএমআই মেটাতে অপহরণের ভুয়ো গল্প, জালে অশোকনগরের যুবক

ঋণ নিয়ে একটি ট্রাক কিনেছিল যুবক। কিন্তু বেশ কয়েকটি কিস্তির টাকা দিতে না পারায় গাড়িটি আটকে রেখেছে ব্যাঙ্ক

ট্রাকের ইএমআই মেটাতে অপহরণের ভুয়ো গল্প, জালে অশোকনগরের যুবক
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ঋণ নিয়ে একটি ট্রাক কিনেছিল যুবক। কিন্তু বেশ কয়েকটি কিস্তির টাকা দিতে না পারায় গাড়িটি আটকে রেখেছে ব্যাঙ্ক। আর সেই গাড়ি ছাড়াতে অপহরণের গল্প ফাঁদে বছর ছাব্বিশের যুবক ফিরোজ মণ্ডল। রাতে বাবাকে হোয়াটসঅ্যাপ কলে সে বলেছিল, ‘বাবা আমাকে কিডন্যাপ করেছে। পাঁচ লক্ষ টাকা পাঠাও। নাহলে আমাকে ওরা মেরে ফেলবে।’ আর এই গল্প ফাঁদতে তিনবন্ধুকে সঙ্গে নিয়েছিল সে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। শেষমেশ পুলিসের পাতা ফাঁদে জড়িয়ে গেল ওই যুবক। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি অশোকনগরের গুমা এলাকার।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ফিরোজের বাড়ি অশোকনগর থানার উত্তর গুমার খোশদেলপুর এলাকায়। তাঁর গাড়ির ব্যবসা আছে। বাবা জব্বার মণ্ডল পেশায় রাজমিস্ত্রি। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার। ফিরোজের একটি ট্রাক আছে। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েই সে গাড়িটি কিনেছিল। কিন্তু ফিরোজ সেই টাকা শোধ করতে পারছিল না। বন্ধুদের কাছে সে টাকা জোগাড় করার জন্য ‘পরামর্শ’ চেয়েছিল। সেই মতো শনিবার রাতে বন্ধুরা তাঁকে দত্তপুকুর থানার বামনগাছিতে যেতে বলে। একটি হোটেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে ফিরোজ মদ খায়। সেখানেই বন্ধুরা তাকে অপহরণের গল্প সাজিয়ে বাবার কাছেই পাঁচলক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার বুদ্ধি দেয়। নিজের মোবাইল সুইচ অফ মোড করে দেয় সে। তারপর বন্ধুদের ফোন থেকে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে নেট নিয়ে বাবাকে হোয়াটসঅ্যাপ কল করে। ওই দিন রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ সে বাবাকে বলে, ‘বাবা আমাকে অপহরণ করা হয়েছে। তুমি পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আমাকে এক্ষুনি পাঠাও। আর সেটা আমার অ্যাকাউন্টে পাঠাও। নাহলে ওরা আমাকে ছাড়বে না। মেরে ফেলবে।’ রাতে অপহরণের ফোন পেয়ে বাবা অশোকনগর থানায় যোগাযোগ করেন। পুলিস ফোন কল আসা নম্বর ট্র্যাক করা শুরু করে। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনে দেখা যায়, কখনও তা বামনগাছি, কখনও হাবড়া, আবার কখনও তা বর্ধমানে রয়েছে। অবশেষে তদন্তকারী আধিকারিকদের পরামর্শ মতো ফিরোজের বাবা মুক্তিপণের টাকা দিতে সম্মত হন। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে শিয়ালদহ রেল স্টেশন সংলগ্ন একটি জায়গায় টাকা নিয়ে যেতে বলা হয়। ফিরোজের বাবা শিয়ালদহ স্টেশনের নির্দিষ্ট জায়গায় অপেক্ষা করতে থাকেন। অশোকনগর থানার সাদা পোশাকের পুলিস এলাকা আগে থেকে ফাঁদ পেতে রেখেছিল। ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ফিরোজই কাঁদোকাঁদো মুখ নিয়ে অপহরণকারীদের জন্য টাকা নিতে এসেছে। পুলিস সঙ্গে সঙ্গে ফিরোজকে ধরে ফেলে। পুলিসি জেরায় সে জানিয়েছে, ঋণের টাকা শোধের জন্য সে বন্ধুদের সঙ্গে এক হয়ে এই অপরণের গল্প সাজিয়েছিল। পুলিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ‘স্বঘোষিত অপহৃত’কে বারাসত মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে, নিয়ম মেনে তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিস সূত্রের খবর, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও মামলা করা হয়নি। তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ফিরোজকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে  এই চক্রের আরও দুই সঙ্গীকে খোঁজা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ