Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অশোকনগর না সিটং? সমতলেই ফলছে বড় আকারের কমলালেবু, বাগান দেখতে ১০ টাকার টিকিট

কমলালেবু কিনে খেতে এতদিন পয়সা লাগত। এখন কমলালেবু দেখতেও পয়সা খরচ করছে মানুষ। কমলাবাগান দেখতে ১০ টাকা লাগছে।

অশোকনগর না সিটং? সমতলেই ফলছে বড় আকারের কমলালেবু, বাগান দেখতে ১০ টাকার টিকিট
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কমলালেবু কিনে খেতে এতদিন পয়সা লাগত। এখন কমলালেবু দেখতেও পয়সা খরচ করছে মানুষ। কমলাবাগান দেখতে ১০ টাকা লাগছে। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ের কোলের গ্রাম সিটং কমলালেবু ফলনের জন্য বিখ্যাত। পর্যটকরা সেখানে বাগান ঘুরে দেখতে যান। এবার সমতলেও কমলালেবুর গাছ বসেছে। সেখানেও যাচ্ছে মানুষ। অশোনগরের নারায়ণ মণ্ডল প্রায় অসাধ্যসাধন একটি কাজ করেছেন। তাঁর দৌলতে অশোকনগরে শ্রীকৃষ্ণপুর ‘মিনি সিটং’ নামে পরিচিত হয়েছে। বহু মানুষ যাচ্ছেন লেবুর বাগান দেখতে। সে জন্য টিকিট কাটতে হচ্ছে তাঁদের। নারায়ণবাবু ইউটিউব দেখে লেবু চাষ শিখেছেন। নিজের সাত বিঘার মতো জমিতে কমলাবাগান তৈরি করেছেন। রাসায়নিক সার মোটেও ব্যবহার করেন না। জৈব সারই ব্যবহার হয়। তাঁর বাগানে রয়েছে পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও অন্যান্য দেশেরও গাছ। 

Advertisement

অশোকনগরের শ্রীকৃষ্ণপুর পঞ্চায়েতের সেনডাঙার পাশে কেওটসাহা গ্রাম। সেখানে নারায়ণের সাতবিঘা জমিতে নার্সারি আছে। কয়েকবছর আগে দার্জিলিং, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির কমলালেবুর ১২০টি চারা কিনে চাষ শুরু করেন। প্রথমদিকে চাষ বিফলে যায়। গতবছরে পাল্টায় পরিস্থিতি। চাষে উন্নতি হয়। সে নার্সারিতে এখন কমলা রংয়ের আগুন লেগেছে যেন। গাছে গাছে ঝুলছে লেবু। সেগুলির আকার বেশ। সুগন্ধও মনমাতানো। নারায়ণ বলেন, ‘প্রতিদিনই বহু মানুষ আসছেন। কমলালেবু চাষ তো সমতলে হয় না. তাই এই বাগানের আকর্ষণ বেশি।’ তিনি জানান, সারাবছরই গাছের যত্ন নিতে হয়। অক্টোবর, নভেম্বর ও জানুয়ারিতে অতিরিক্ত যত্ন। এই সময় গাছ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাঁচাতে বেশি করে সার দিতে হয়।’ এই বাগানের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। বাগানে লেবু ছাড়াও সবেদা, মোসম্বি, পেয়ারা ও আম গাছ আছে। এখানকার লেবু বাজারে আপাতত বিক্রি করা হচ্ছে না বলে জানালেন নারায়ণ। জেলা কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এই কাজ যথেষ্ট কষ্টকর। কারণ, এ ক্ষেত্রে আবহাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি অন্যত্র প্রচারের ভাবনা নিচ্ছি। মধ্যমগ্রামের শ্রেয়া চক্রবর্তী গিয়েছিলেন কমলার বাগানে। বললেন, ‘সমতলে কমলালেবু ফলছে দেখে মন ভরে গিয়েছে। পাহাড়ে কমলালেবুর বাগান দেখতে গেলে মোটা টাকা খরচ করতে হয়। এখানে আসতে তেমন খরচ হল না।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ