Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মাত্র একটি ভোটে জয়ী আশিসই কালীগঞ্জে বিজেপির ভরসা

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মাত্র একটি ভোটে  জয়ী আশিসই কালীগঞ্জে বিজেপির ভরসা
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তেইশের পঞ্চায়েত নির্বাচনে মাত্র ১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি নেতা আশিস ঘোষ। সেই আশিসকেই কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির। কঠিন লড়াই। তা হলেও পঞ্চায়েতের মতো ‘ম্যাজিক’ জয়ের প্রত্যাশায় বিজেপি নেতৃত্ব। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কালীগঞ্জ বিধানসভায় পরাজয় অনিবার্য বলেই ধরে নিয়েই  নিয়মরক্ষার খাতিরে লড়াইয়ে নেমেছে পদ্ম শিবির। আবার, পঞ্চায়েত স্তরে কোনওরকমে উতরে যাওয়া জনপ্রতিনিধিকে বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী করে  বিজেপির আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নয়তো? সেই প্রশ্নও উঠছে নানা মহলে। যদিও বিজেপির দাবি, দলের ভিতর থেকেই প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। যাতে নির্বাচনী ময়দানে মানুষের পালস বুঝতে সমস্যা না হয়। এদিকে, উপনির্বাচনে কালীগঞ্জের হিন্দু ভোট কতটা বিজেপির দিকে আসে, সেদিকেই নজর সকলের। কারণ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতি কতটা কার্যকর হচ্ছে—তা এই উপনির্বাচনে আংশিকভাবে হলেও স্পষ্ট হয়ে যাবে।  

Advertisement

কালীগঞ্জ বিধানসভার বিজেপির অন্যতম সক্রিয় সদস্য হলেন আশিস ঘোষ। তিনি কালীগঞ্জ বিধানসভার বিজেপির কনভেনার। অতীতে মণ্ডল সভাপতি, কিষান মোর্চার ব্লক সভাপতি পদও সামলেছেন। পাশাপাশি কালীগঞ্জ বিধানসভার দেবগ্রাম পঞ্চায়েতের চারবারের বিজেপি সদস্য। ২০২৩ সালে আশিস তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে উত্তর চ্যাটার্জিপাড়া থেকে ২০৬টি ভোট পেয়েছিলেন। অন্যদিকে ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ ঘোষের প্রাপ্য ভোট ছিল ২০৫টি।‌ এনিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী সোমনাথবাবু কটাক্ষ করে বলেন, চারবারের পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ার পরেও আমার কাছে মাত্র এক ভোটে ওঁকে জিততে হয়েছিল। তা হলে বোঝাই যাচ্ছে, ওঁর কিরকম গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এলাকায়। তাঁকেই বিজেপি প্রার্থী করেছে। এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজও করেন না তিনি। যদিও পঞ্চায়েতের জয়ের ব্যবধানের অঙ্ক নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষ। তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিজেপির হয়ে জিতেছি। কত মার্জিনে জিতেছি সেটা জেনে লাভ নেই। উল্লেখ্য, রবিবার পলাশী ২ পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ। তিনি বলেন, মহিলাদের মধ্যে আলাদা আবেগ দেখা যাচ্ছে। সকলেই খুব উচ্ছ্বসিত। মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করে খুব ভালো লাগছে। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। যদিও কালীগঞ্জ বিধানসভা শাসকদল তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। তবে কালীগঞ্জের এই উপনির্বাচনকে ‘প্রস্তুতি ম্যাচ’ হিসেবে দেখছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালী খাতুন বলেন, আসন্ন উপনির্বাচনে মানুষ বিজেপির মেরুকরণের নোংরা রাজনীতির মোক্ষম জবাব দেবে। অন্য দল নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নকে সামনে রেখে ভোট করছি।‌
গত লোকসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপির পাওয়া ৬৪ হাজার ভোটের সিংহ ভাগটাই হিন্দু ভোট হিসেবে ধরা হয়। যদিও এর পিছনে তৃণমূলের ‘তরমুজ’ নেতাদের একাংশের কারসাজি ছিল বলেই মনে করেন‌ অনেকে। তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই উপনির্বাচনে বিজেপি যদি কালীগঞ্জের সীমিত হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে পারে, তাহলে রাজ্য রাজনীতিতে তা অন্য মাত্রা পাবে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের শিবিরে হিন্দু ভোট ফিরলে বিধানসভায় নতুন সমীকরণ তৈরি হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। - ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ