সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ফি বছর পয়লা বৈশাখে যে পরিমাণ পুণ্যার্থীর ভিড় হয়, এবার পরিস্থিতি তার চেয়ে বেশ আলাদা। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষের আনাগোনা থাকলেও বাইরের পর্যটকের সংখ্যা ছিল বেশ কম। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধানসভার বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুস্থতা কামনায় তাঁদের নাম, গোত্র ধরে পুজো দিলেন বিধানসভার বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার তথা রামপুরহাটের তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন ভোর থেকেই তারা মাকে পুজো দিতে ভক্তদের লম্বা লাইন ছিল মন্দির প্রাঙ্গণে। কিন্তু সকাল হতেই বেড়েছে রোদ। বেলা বাড়তেই চড়তে থাকে তাপমাত্রার পারদ। কিন্তু সেই রোদ ও গরম উপেক্ষা করেই এদিন ভক্তরা দেবী তারাকে পুজো দেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবারের মঙ্গল কামনায় মায়ের আশীর্বাদ নিতে এসেছিলেন। আবার কেউ কেউ হাজির হন ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধির জন্য হালখাতা নিয়ে মায়ের চরণে পুজো অর্পণ করতে। তবে তাঁদের বড় অংশই ছিল স্থানীয়। তবে পূণ্যার্থীদের অনেকেই সেবাইতদের ফোনের মাধ্যমে দেবী তারার দর্শন থেকে অঞ্জলি দেন। যেমন কলকাতার সুপ্রিয় মজুমদারের কথাই ধরুন। তিনি নিজেদের সেবাইতকে ফোন করে ভিডিও কলের মাধ্যমে তারা মায়ের পুজো দেন। তবে ভিড় কম থাকার কারণে এদিন ভক্তরা বেশ শান্তিতেই দেবী দর্শন সারতে পেরেছেন। প্রতিবছরের মতো এদিন সকালে মায়ের কাছে পুজো দেন রামপুরহাটের তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থী বলেন, বহু বছর ধরেই বাংলা বছরের প্রথমদিন মায়ের কাছে পুজো দিতে আসি। মায়ের কাছে সবার মঙ্গল কামনার পাশাপাশি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে পুজো দিয়েছি। শুধু তৃণমূল প্রার্থীই নন, নববর্ষের প্রথম দিনে দেবীর কাছে অশুভ শক্তির বিনাসের কামনা জানিয়ে পুজো দেন রামপুরহাটের বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহা। সবার মঙ্গল কামনায় পুজো দিয়ে লাড্ডু বিলি করেন হাসন কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, একদিকে প্রখর রোদ, তার উপরে ভোটের কাজে প্রচুর গাড়ি ও বাসের রিকুইজিশন হওয়ার ফলে অনেক পর্যটক যাতায়াতের অসুবিধার কথা ভেবে সফর বাতিল করছেন। তারাপীঠে লজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, ভোটের মরশুমে সাধারণ মানুষের মন এখন রাজনৈতিক সমীকরণে আবদ্ধ। দূর-দূরান্তের পর্যটকের সংখ্যা কমেছে। তবে আশা করা যাচ্ছে, তাপমাত্রা কিছুটা কমলে বা ভোট শেষে পুনরায় তারাপীঠে ভক্তদের ভিড় বাড়বে।