নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আসানসোল জেলা হাসপাতাল। শ’য়ে শ’য়ে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা বিনামূল্যে করে চলেছে এই হাসপাতাল। শুধু এই রাজ্যেরই নয়, পড়শি ঝাড়খণ্ডের রোগীরাও আসছেন। ক্যান্সারের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যভাবে হিমোফিলিয়া রোগের চিকিৎসাও করে চলেছে আসানসোল জেলা হাসপাতাল। সেখানেও শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি ভিনরাজ্যের রোগীরা স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়ে আসছেন। ভিনরাজ্যের রোগীদের জন্য এই বিপুল ব্যয়ভার নিয়ে জোর চর্চা হল শনিবারের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে।
হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মন্ত্রী মলয় ঘটক নির্দেশ দেন, ভিনরাজ্যের কতজন রোগী এই চিকিৎসা পরিষেবা নিচ্ছেন, তার তথ্য পৃথকভাবে রাখতে হবে। এমনকী, কোন রোগী কত টাকার স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়েছেন, তার তথ্য রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিনের বৈঠকে মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আসানসোল পুরসভার চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়, জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস প্রমুখ। সেখানেই ভিনরাজ্যের রোগীদের পরিসংখ্যান জানতে চাওয়া হয়। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এদিনের বৈঠকে তৎক্ষণাৎ সেই তথ্য দিতে পারেনি। তারপরই ঠিক হয়, পৃথকভাবে সেই তথ্য তৈরি করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সেই তথ্য পাঠানো হবে রাজ্যে।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী ভিনরাজ্যের রোগীদের তথ্য পৃথকভাবে রাখার জন্য প্রকাশ্যেই নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই তথ্য কি আদৌ রাখছে হাসপাতালগুলি? এদিনের বৈঠকে জেলা হাসপাতাল সেই তথ্য দিতে পারেনি। আসানসোল জেলা হাসপাতালে এখনও গড়ে ওঠেনি বার্ন ইউনিট। তা চালু করা নিয়ে এদিনের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও ২০ শয্যার এইচডিইউ ইউনিট চালু নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ১০০ শয্যার সিসিইউ ব্লক তৈরির কাজের কী অবস্থা রয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ভিনরাজ্যের রোগীদের তথ্য পৃথকভাবে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।