Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অসময়ে দানা, দেশি কাট্টার রমরমা, পুলিসের নজরে দাগি অপরাধীরা

অসময়ে দানা, দেশি কাট্টার রমরমা, পুলিসের নজরে দাগি অপরাধীরা
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অসময়ে বাড়ছে ‘দানা’, ‘দেশি কাট্টা’র রমরমা। কাটোয়া এবং কালনা মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় সেই সবের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শুক্রবার নাদনঘাট থানার পুলিস ১০০পিস থ্রি নট থ্রি গুলি সহ দুই অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করে এমনই তথ্য জানতে পেরেছে। কয়েক দিন আগে কাটোয়া থানা এলাকা থেকেও অস্ত্র সহ কারবারি গ্রেপ্তার হয়। মেমারি থানার পুলিসও এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। বিহার থেকে কখনও ট্রেন আবার কখনও বাস পথে এসব ঢুকছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কার্তুজ বা গুলি দুষ্কৃতীদের কাছে দানা নামে পরিচিত। ওয়ানশটার দেশি কাট্টা নামে পরিচিত। ভোটের মরশুমে সাধারণত দানা বা দেশি কাট্টার কদর বাড়ে। কিন্তু অসময়ে ব্যাপকভাবে তা আমদানি হতে শুরু করায় আধিকারিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নাদনঘাট থানা এলাকা থেকে ধৃত দুই দুষ্কৃতী ওই এলাকার একজনকে কার্তুজ ও অস্ত্র হস্তান্তর করার জন্য এসেছিল। তবে হাত বদলের আগেই তাদের পাকড়াও করা হয়। পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ধৃতদের কাছে থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সেসব যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলী ও নাদনঘাট এলাকায় অস্ত্রপাচার কারবারিদের নতুন একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তারা পূর্ব বর্ধমান সহ নদীয়ার বিভিন্ন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করছে। এই চক্রের আরও কয়েকজনের খোঁজে পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে। এক আধিকারিক বলেন, নাদনঘাট বা পূর্বস্থলীর ক্যারিয়াররা সরাসরি বিহারের মুঙ্গের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসছে। পরে তা হাতবদল করা হচ্ছে। ওয়ানশটার চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এধরনের আগ্নেয়াস্ত্র এরাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও তৈরি হয়। সেটির দাম কম। বেশিদিন টেকসই হয় না। কিন্তু, মুঙ্গেরের তৈরি ওয়ানশটারের ‘ফিনিশিং’ অন্য রকম। অত্যন্ত মজবুত হয়। সেই কারণে দাম বেশি। 
পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, কার্তুজ মুঙ্গের থেকে সরবরাহ হচ্ছে। তবে কার্তুজ সেখানেই তৈরি হচ্ছে, নাকি অন্য কোথা থেকে আনা হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃতরা জানিয়েছে, তারা একজনের নির্দেশ মতো মুঙ্গের থেকে ১০০পিস কার্তুজ ও একটি ওয়ানশটার এনেছিল। নাদনঘাট এলাকার একজনকে সেটি হস্তান্তর করার কথা ছিল। ধৃতদের মধ্যে একজন আগেও অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। জেল থেকে বেরনোর পর সে আবার ক্যারিয়ারের কাজ শুরু করে। এই কাজের জন্য তাদের আট থেকে ১০হাজার টাকা কমিশন দেওয়া হয়। পুলিসের দাবি, বেশ কিছু ‘ইনপুট’ থাকায় কয়েকটি এলাকায় বাড়তি নজরদারি চালনো হচ্ছে। কয়েকজন ‘দাগি’ অপরাধীও তাদের নজরে রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ