নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিপুল পরিমাণ গয়না সহ আর্থিক প্রতারণায় ধৃত তাহসিন আহমেদকে রবিবার আসানসোল আদালতে তুলল পুলিশ। এদিন অভিযুক্তের সঙ্গে আদালতে জমা দেওয়া সিজার লিস্টে ১৫৬টি সামগ্রীর উল্লেখ রয়েছে। পুলিশের লম্বা তালিকায় রয়েছে সোনার ভারী গয়না থেকে কয়েন, হীরের আংটি, কিছু সোনার জল করা রুপোর সামগ্রী। সব্জি বাজার করা ঝোলায় এই বিপুল গয়না ভরে পালানোর সময় পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। এই মামলায় আগেই সিট গঠন করেছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। প্রাথমিক জেরায় পুলিস জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করত।
কয়েক বছর শেয়ার মার্কেটের সূচক উল্কার গতিতে বেড়েছে। তাহসিনও শেয়ার মার্কেটে টাকা খাটিয়ে অনেককে চড়া মুনাফা দিয়েছে। এবাব শেয়ার বাজারে ধস নামতেই বিপদে পড়ে প্রাক্তন কাউন্সিলার সাকিল আহমেদের ছেলে তাহসিন। তখন ‘হেরাফেরি’ সিনেমার আদলেই একজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অন্যজনের প্রাপ্য মিটিয়েছে। শেষে বিপুল টাকার চাপ আর সামলাতে পারেনি। তাকে টাকা দিয়ে বিপাকে পড়েছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
এদিন আসানসোলের অবসরকালীন আদালতে সিজেএমের এজলাসে অভিযুক্তকে ১৪দিন হেফাজতে চেয়ে আর্জি জানান তদন্তকারী অফিসার। অভিযুক্তের আইনজীবী গ্রেফতারের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযুক্তের জামিনের আর্জি জানান। বিচারক দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে অভিযুক্তকে ১০দিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। অভিযুক্তের আইনজীবী সৈয়দ রাইহাম বলেন, আমার মক্কেল বিপুল পরিমাণ অলঙ্কার সংগ্রহ করেছিলেন নিজেদের পরিবারের মহিলাদের কাছ থেকেই। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সেই সোনা, হীরের অলঙ্কার বিক্রি করে পাওনাদারদের টাকা মেটানোর। সেই সময়ই পুলিশ গ্রেফতার করে। আগে কোনও নোটিশ দিয়ে তাঁকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য না ডেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।ব্যাঙ্কের সুদের হার নগণ্য, অথচ শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করলে লাভের মুখ দেখা যাচ্ছিল। এক থেকে দেড় বছর আগেও এই চিত্র দেখা যাচ্ছিল। অনেকেই ব্যাঙ্কের উপর ভরসা ছেড়ে নিজের সঞ্চিত অর্থ শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করছিলেন। কিছু মানুষ আবার এটাকে পেশায় পরিণত করেন। তাঁরা অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিপুল মুনাফা দেওয়ার টোপ দিতেন। সেই টাকা শেয়ার মার্কেটে খাটিয়ে টাকা মুনাফা করতেন। পুলিশ তাহসিন কাণ্ডের তদন্তে নেমে তেমন ঘটনারই হদিশ পেয়েছে। তাই শেয়ার মার্কেট যতদিন চাঙ্গা ছিল তাহসিন টাকা ফেরত দিয়েছে। তারপর শেয়ার মার্কেটের ধস নামতেই টাকা দিতে টালবাহানা শুরু করে। বিপুল টাকা মার্কেট থেকে তোলার ফলে সেই টাকা আর ফেরত দিতে পারেনি সে। তারপরই টাকা চাইতে তার বাড়িতে আসা এক মহিলাকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। তাহসিন, তার বাবা এবং ভাই তাতে অভিযুক্ত। আসানসোল উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় তাকে আসানসোলের চন্দ্রচূড় মোড় থেকে গ্রেফতার করে। সেখানেই বিপুল অলঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত হওয়ার সামগ্রীর দেড়শো ছড়িয়েছে।
অভিযুক্ত তহসিন আহমেদকে আসানসোল আদালতে তোলা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র