Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান থেকে দেরিতে ছাড়ছে আসানসোলগামী ট্রেন, ইন্টারলকিংয়ের কাজের জেরে ভোগান্তি যাত্রীদের

ইন্টারলকিংয়ের কাজের জন্য বর্ধমান-আসানসোল শাখায় একাধিক ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, চালু থাকা লোকাল ট্রেনগুলি সময়ে আসছে না।

বর্ধমান থেকে দেরিতে ছাড়ছে আসানসোলগামী ট্রেন, ইন্টারলকিংয়ের কাজের জেরে ভোগান্তি যাত্রীদের
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: ইন্টারলকিংয়ের কাজের জন্য বর্ধমান-আসানসোল শাখায় একাধিক ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, চালু থাকা লোকাল ট্রেনগুলি সময়ে আসছে না। যার জেরে বুধবার দুপুরে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় দুর্গাপুরগামী যাত্রীদের। 

Advertisement

ইন্টারলকিংয়ের কাজের জন্য বুধবার আসানসোলগামী ৬৩৫১৫ট্রেনটি বর্ধমান থেকে বাতিল করা হয়। তা রেল আগেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল। ফলে যাত্রীরা ৬৩৫৪৯ ট্রেনটি ধরতে স্টেশনে আসেন। এই ট্রেনটি বর্ধমান থেকে বেলা ১২টা ৩০মিনিটে রওনা দেয়। কিন্তু ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে ছাড়ায় যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন। দুর্গাপুরের যাত্রী রাজীব মুখোপাধ্যায় বলেন, ১১টা ৫০মিনিটের ট্রেন বাতিল ছিল। ফলে যাত্রীরা পরের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ১২টা ৩০মিনিটের লোকাল সময়ে রওনা দেয়নি। এমনকী আসানসোলগামী পরের ট্রেনের নির্ধারিত সময় বেলা ১টা পেরিয়ে গেলেও আগের লোকাল স্টেশনে দেয়নি। রেলের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়, রেকের সমস্যার জন্য ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছে। পরে আসানসোল থেকে আসা লোকাল ট্রেনটি বর্ধমানে এলে তারপর ছাড়া হয়। ১টা ১৫ মিনিটের পর ট্রেন রওনা দেয়। 
গলসির বাসিন্দা সুবিমল হাজরা বলেন, ব্যক্তিগত কাজে হাওড়া গিয়েছিলাম। বর্ধমান স্টেশনে নেমে দেখি একটি ট্রেন বাতিল। যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে একটি ট্রেনে তিনটি ট্রেনের যাত্রী ওঠে। ফলে ব্যাপক ভিড় ছিল। তিনি জানান, পারাজ, গলসি, রাজবাঁধ থেকে বহু মানুষ প্রতিদিন বর্ধমান ও দুর্গাপুরে যান। এইসব এলাকা থেকে বাসে করে গন্তব্যে যেতে গেলে বহু সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। তাই এই এলাকাগুলির বাসিন্দাদের ভরসা লোকাল ট্রেন‌। সময়ে ট্রেন না চললে সমস্যা হয়। আর এক নিত্যযাত্রী অভিযোগ করে বলেন, এই সমস্যা নিত্যদিনের। এই লাইনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে লোকাল ট্রেন প্রায়শই দেরিতে চলে। রেলের কাজ না থাকলেও লোকাল ট্রেনের উপর ভরসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। মানকরের বাসিন্দা নিত্যযাত্রী সুরজিৎ গুপ্ত বলেন, অনেক সময় আসানসোলগামী লাস্ট লোকাল সময়ে আসে না। ফলে অফিসের ডিউটি ধরতে দেরি হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। অফিসে যাতে দেরি না হয় সেজন্য অনেকেই লাস্ট লোকালের বদলে তার আগের ট্রেনটি ধরেন। ফলে অনেক আগে গিয়ে বসে থাকতে হয়। লোকালের সময়ের দিকে রেল কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত। রেক নেই বলে ট্রেন দেরিতে চলবে জন্য এটা মানা যায় না। যদিও এব্যাপারে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, যাত্রীদের সুবিধার জন্য কাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলে সুবিধা হবে। দ্রুতগতিতে গাড়ি যাবে। তাতে যাত্রীদেরই উপকার হবে। রেকের সংখ্যা কম নয়। ঠিকই আছে।  বর্ধমান স্টেশনের ওভারব্রিজে অপেক্ষারত যাত্রীরা।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ