সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি যেন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। বিজেপির ইস্তাহারে যেমন রয়েছে ডিএ ও সপ্তম পে কমিশনের প্রতিশ্রুতি তেমনি চা শিল্প, পাট শিল্পে উন্নয়নের বার্তা। উত্তরবঙ্গের জন্য এমইস,আইআইটি গড়ার প্রতিশ্রুতি। তেমনি হলদিয়ার উন্নয়ন, মৎস্যজীবীদের উন্নয়নে। বিজেপি এই দরাজ ইস্তাহারে বাংলার নানা প্রান্তের খোঁজ রাখা হলেও ব্রাত্য করে রেখে দেওয়া হল আসানসোল, দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলকে। যে শিল্পাঞ্চলের বেশিরভাগ জমিই কেন্দ্রীয় সংস্থার অধিনে রয়েছে। যেখানের মানুষ ইসিএল সেইলের উপর নির্ভরশীল। সেখানে বন্ধ কারখানা খোলা থেকে নতুন কারখানা গড়ার একটি প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়নি। বিজেপির এই কল্পতরু অবতারের মাঝেও তাঁরা ব্রাত্য রেখেছে সেই শিল্পাঞ্চলকে যেখানে বিজেপি ভিত প্রথম মজবুত হয়েছিল। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে একক ক্ষমতায় রাজ্যে একমাত্র আসানসোল আসনেই জয়লাভ করেছিল বিজেপি। শিল্পাঞ্চলের মানুষকে ব্রাত্য রাখায় সরব হয়েছে তৃণমূল থেকে কংগ্রেস, সিপিএম সব পক্ষই।
যদিও এই কথা মানতে চাননি বিজেপির রাজ্য সহসভাপতি অগ্নিমিত্রা পল। তিনি বলেন, নদীর উপর ব্রিজ তৈরির কথা বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী বার্নপুরে দামোদরের উপর সেতু হবে। আমাদের কেন্দ্রীয় বাজেটে দুর্গাপুরকে শিল্প করিডোরের কেন্দ্র বিন্দু হিসাবে গড়ে তোলার কথা জানানো হয়েছে। আমরা সরকার গড়ার পর বন্ধ কারখানাতে নতুন কিছু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্যোগী হবে।
২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসাবে উঠে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। আসানসোলের সভায় বিজেপি প্রার্থীর নাম করে বলেন, আমাকে দিল্লিতে তাঁকে চাই। সেই সময়ে এই আসন জয়লাভ করে বিজেপি। কিন্তু পূর্ণ মন্ত্রী হননি আসানসোলের এমপি। আসানসোল শিল্পাঞ্চলের জন্য বাড়তি কিছু পায়নি। তারপর দীর্ঘ কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইতিহাস। বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাজেটে তাঁদের বিশেষ প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল। বাংলার ক্ষেত্রে তা হয়নি। তারপরও শিল্পাঞ্চলে বিজেপির প্রভাব থেকেই গিয়েছে। তার প্রমাণ ২০২১ সালেও জেলার ন’টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ছ’টিতে জয়লাভ করে বিজেপি। বৃহস্পতিবারও আসানসোলে নরেন্দ্র মোদির সভা ও রাস্তায় তাঁকে দেখার জন্য শিল্পাঞ্চলবাসীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ্যে এসেছে। এরপরও আসানসোল, দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল ব্রাত্য রয়েগেল বিজেপির সংকল্প পত্রে। দীর্ঘ সংকল্প পত্রে এক বারের জন্যও এই শিল্পাঞ্চলের নাম উল্লেখ নেই। বন্ধ কারখানাগুলি পুনরুজ্জীবনের কোন উদ্যোগ নেওয়া উল্লেখ নেই ইস্তেহারে। খনি অঞ্চলের বিকাশের কোন প্রতিশ্রুতি ধরা পড়েনি। ইস্তাহারে একটি জায়গায় ক্ষুদ্র আকারে লেখা রয়েছে নতুন ইস্পাত কারখানা গড়া হবে। তা কোথায় তার কোন দিশা দেখা যায়নি ইস্তেহারে। শিল্পাঞ্চলের মানুষ বিজেপি পাশে দাঁড়ানোর পরও এই বঞ্চনা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন উঠছে।
সিপিএম জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এমএএমসি,হিন্দুস্থান কেবলস, বানর্স স্ট্যান্ডার্ড কারখানার অস্তিত্ব মুছে দিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। বিজেপি সরকার শিল্পাঞ্চলকে শুধু বঞ্চনা করেনি শিল্পাঞ্চলকে রুগ্ন করে দিয়েছে। আসানসোল, দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে একটা সময়ে বিজেপির দু’জন এমপি ছিল। তারপরও বিজেপি এখানকার খনি অঞ্চলকে বেসরকারি হাতে তুলে দেয়। এখনও সেই চেষ্টাই করছে।
তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, ওটা বিজেপির ইস্তেহার নয় ভাঁওতা। সেখানেও আসানসোল, দুর্গাপুরের নাম উল্লেখ করল না তাঁরা। এথেকেই বোঝা যাচ্ছে শিল্পাঞ্চলবাসীর প্রতি কতটা বিদ্বেশ রয়েছে বিজেপির। কংগ্রেস জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি মানুষকে ভাঁওতা ছাড়া কিছু দেয়নি। শিল্পাঞ্চল তাঁদের আমলেই ধ্বংসের পথে গিয়েছে।