Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাত বাড়তেই দুর্যোগ উপেক্ষা করে ভিড়ের দাপট চন্দননগর, ভদ্রেশ্বরে

দুর্যোগের ভ্রুকুটিতে প্রত্যাশিত ভিড় জমল না আলোর শহর চন্দননগরে। জগদ্ধাত্রী পুজোর নবমী মানেই ভিড়ে ঠাসা চন্দননগর, ভদ্রেশ্বর।

রাত বাড়তেই দুর্যোগ উপেক্ষা করে  ভিড়ের দাপট চন্দননগর, ভদ্রেশ্বরে
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দুর্যোগের ভ্রুকুটিতে প্রত্যাশিত ভিড় জমল না আলোর শহর চন্দননগরে। জগদ্ধাত্রী পুজোর নবমী মানেই ভিড়ে ঠাসা চন্দননগর, ভদ্রেশ্বর। সেই দৃশ্য এবারের নবমীতে দেখা যায়নি। তবে সন্ধ্যার পরে দুর্যোগের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করেই পথে নেমেছিলেন মানুষ। চন্দননগর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ভিড় জমিয়েছেন রাতের দিকে। জনস্রোত বয়ে না গেলেও গভীর রাতে বড় বড় পুজো মণ্ডপে ভিড়ের দাপট দেখা গিয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, দুর্যোগের সম্ভাবনায় ভিড় হবে না বলেই মনে হয়েছিল। সেই নিরিখে ভালোই ভিড় হয়েছে। মানুষ উৎসাহের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেছেন। রাতে ভিড়ের দাপট বেড়েছে।

Advertisement

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চন্দননগরে ভিড় ছিল ভিন্ন রকমের। মূলত, দুর্গানবমীতেই চন্দননগরের অধিকাংশ মণ্ডপে দেবী আরাধনা হয়। সপ্তমী থেকে নবমীর পুজো একদিনেই করা হয়। বছরভর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেন পুজো উদ্যোক্তা। ফলে, ভিড়ে ঠাসা ছিল পুজোমণ্ডপ। পুজোর আয়োজনের বাহুল্য এবং ভক্ত সমাগমে বিকেল পর্যন্ত সরগরম ছিল চন্দননগরের ছোট, বড়, মাঝারি মণ্ডপ। পুজোর আয়োজন, পুজো দিতে আসা মানুষের ঢল এদিন দুর্যোগকে উপেক্ষা করেছে। দফায় দফায় বৃষ্টিও পুজোর আয়োজনে বাধ সাধতে পারেনি। ফরাসডাঙার মাঠেঘাটে, পথে-প্রান্তরে সুললিত উচ্চারণ হয়েছে বেদমন্ত্রের। মহা ধূমধামে পালিত হয়েছে দুর্গানবমী। চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, নবমী মানেই বিশেষ রকমের ভিড়। দুর্যোগের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার প্রত্যাশিত ভিড় হয়নি। তবে রাতের দিকে প্রচুর জনসমাগম হয়েছে। সেটাও পরিস্থিতির নিরিখে অপ্রত্যাশিত ছিল। শুভজিৎবাবুর দাবি, দশমীর রাতে তীব্র ভিড়ের সম্ভাবনা আছে। ভিড় নিয়ে প্রত্যাশা না মিটলেও অখুশি নন উত্তরাঞ্চলের পুজো উদ্যোক্তা মোহিত নন্দী। বৃহস্পতিবার ‘বর্তমান ডিজিটাল’-এর সেরা পুজোর পুরস্কার পেয়েছে তারা। মোহিতবাবু বলেন, নবমীতে যে ভিড় দেখে আমরা অভ্যস্ত, সেই ভিড় বৃহস্পতিবার ছিল না। তবে দুর্যোগের আশংকায় ভিড় হবে না বলেই আমরা মনে করেছিলাম। সেই হিসেবে রাতে অনেকখানি ভিড় হয়েছে। বৈদ্যবাটি থেকে পুজো দেখতে এসেছিলেন সম্রাট বাগ। তিনি বলেন, নবমীর ভিড়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের ভিড়কে মেলাতে পারিনি। তারপরেও যা ভিড় হয়েছে, সেটাও নজরকাড়া। দুর্যোগের মধ্যেই পুজো দেখার সুযোগ ছাড়তে চাননি হুগলির জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক শুভদীপ নাথ। কলকাতার বাসিন্দা শুভদীপবাবু দুপুরেই সহকর্মীদের নিয়ে চন্দননগরের মণ্ডপ ঘুরে নিয়েছেন।
রাত ১০টায় ভিড়ে ঠাসা ছিল সংবাদপত্রের ইতিহাস নিয়ে তৈরি লিচুতলার মণ্ডপ। দেবীর শোলার সাজের চলমান থিম প্রথমবার দেখতে গিয়ে চোখ ধাঁধিয়েছে দর্শকদের। ভিড় দেখা গিয়েছে ফটকগোড়া, খলিসানি, মধ্যাঞ্চল থেকে উর্দিবাজারের মণ্ডপে। সেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের নিবিড় বন্ধনের কাব্যিক নির্মাণ দেখতে স্থানু হয়েছিল ভিড়। আঁচড় কাটলেও থাবা বসাতে পারেনি দুর্যোগ। জনগর্জনের ঝাঁঝ কমলেও ভিড়ের দাপটে মুখর ছিল চন্দননগর-ভদ্রেশ্বর।

সম্পর্কিত সংবাদ