বেঙ্গালুরু: বিশ্ব ক্রিকেটে তিনি ‘কিং কোহলি’। তবে অধরা মাধুরী লাভের তীব্র বাসনাকে সঙ্গী করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু শিবিরে এবার বিরাটের প্রবেশ ‘ডন’-এর স্টাইলে। আসলে ট্রফির ক্যাবিনেটে প্রায় সব সাফল্য বন্দি হলেও আইপিএলের মুকুটটাই যে নেই! কেরিয়ারের শেষ পর্বে সেই স্বাদ পেতে রীতিমতো মরিয়া ভিকে। তারই প্রতিচ্ছবি দেখা গেল কোহলির শরীরী ভাষায়। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আরসিবি’র তরফে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, টিম হোটেলের সামনে মহাতারকার জন্য অপেক্ষা করছেন ফটোগ্রাফাররা। ব্যাকুল অনুরাগীরাও। অবশেষে তাঁর গাড়ি এসে গেটের সামনে দাঁড়ালেও তাতে তিনি ছিলেন না। সবার চোখে ধুলো দিয়ে আগেই হোটেলে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিরাট। এরপর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর ডায়ালগ ‘ডন কো পাকড়না মুশকিল হি নেহি, না মুমকিন হ্যায়!’
আক্ষরিক অর্থেই আরসিবি’র আসল ‘ডন’ বিরাট কোহলি। ২০০৮ সাল থেকে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলছেন। ২৫২ ম্যাচে করেছেন ৮০০৪ রান। আইপিএল ইতিহাসের সর্বাধিক রানসংগ্রাহক দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৪০ ম্যাচে। তাই রজত পাতিদার যতই অধিনায়ক হোক, দলের রিমোট থাকবে কোহলিরই হাতে। এদিন আরসিবি’র স্পোর্টস সামিটে হাজির হয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক বার্তা দিলেন তিনি। পাশাপাশি উড়িয়ে দিয়েছেন অবসর নিয়ে যাবতীয় জল্পনাকে। বলেন, ‘টেনশনে পড়ার দরকার নেই। আমি এখানে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে আসিনি। সবকিছুই ঠিকঠাক রয়েছে। এখনও আগের মতোই ভালোবাসি খেলাটাকে। বিশুদ্ধ আনন্দই আমার প্রেরণা। এটা যতদিন থাকবে, আমি ততদিন খেলব। কোনও রেকর্ডের জন্য আমি খেলিনি। একটাই লক্ষ্য থাকে, দলকে সাফল্য এনে দেওয়া।’
ভারতের গত অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যর্থতা সংক্রান্ত অস্বস্তিকর প্রশ্নের সামনেও রীতিমতো বলিষ্ঠ তাঁর কণ্ঠস্বর। আসলে সাম্প্রতিক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এক ঝটকায় বাড়িয়ে দিয়েছে কোহলির আত্মবিশ্বাস। বিরাট বলেন, ‘ওই সফরের ব্যর্থতায় কতটা দুঃখ পেয়েছি তা শব্দে প্রকাশ করা কঠিন। আর হয়তো কখনও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পাব না। তাই আক্ষেপটা একটু বেশিই হচ্ছে। কিন্তু সাফল্যের মতো ব্যর্থতাকেও মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই জীবন। যেমন ২০১৪ সালে ইংল্যান্ড সফরের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০১৮ ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘ওলিম্পিকসে খেলার জন্য অবসর ভেঙে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ফিরবেন কি?’ জবাবে কোহলি মজা করে বলেন, ‘না। তবে ভারত যদি ফাইনালে ওঠে, তখন একটা ম্যাচের জন্য ফিরব। সোনা জিতে আবার অবসর নেব।’
আসন্ন মরশুমের জন্য শক্তিশালী দল গড়েছে আরসিবি। বিরাট কোহলি, রজত পাতিদার ও যশ দয়ালকে রিটেইন করেছে তারা। এছাড়া লিয়াম লিভিংস্টোন, ফিল সল্ট, ভুবনেশ্বর কুমার, টিম ডেভিডের মতো তারকার অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে। ২২ মার্চ ইডেনে আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। কোহলির বার্তা, ‘অতীতের পরিসংখ্যান মাথায় রাখছি না। চ্যালেঞ্জ যত কঠিনই হোক, সেরাটা উজাড় করে দেওয়াই প্রকৃত যোদ্ধার কাজ।’