ধরমশালা: তাঁর নেতৃত্বেই গতবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ঘুচেছিল দীর্ঘদিনের খরা। এবারও একার হাতে দলকে ফাইনালে তুলে ঘরে-বাইরে প্রশংসিত রজত পাটীদার। চোট নিয়েই তিনি মাঠে নেমেছিলেন। তা সত্ত্বেও চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে ৩৩ বলে করেন অপরাজিত ৯৩। তাঁর ব্যাটিং মুগ্ধ করেছে ক্রিকেট দুনিয়াকে। সেই কারণেই তারকাদের ছাপিয়ে প্রথম কোয়ালিফায়ারের নায়ক পাটীদার।
তবে মধ্যপ্রদেশের ক্রিকেটারটির আইপিএলে উত্থান মোটেও মসৃণ নয়। ২০২১ সালেই তিনি সুযোগ পেয়েছিলেন আরসিবি’তে। তা কাজে লাগাতে পারেননি। ৪ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৭১ রান। মোহভঙ্গ হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি ওনারদের। পরের আইপিএল নিলামে দলই পাননি পাটীদার। ডাগ-আউট থেকে সরাসরি তাঁর ঠিকানা হয়েছিল বাড়ির ড্রয়িংরুমে। প্রথম কিছুদিন টিভি’তেই তাঁকে স্বাদ নিতে হয়েছিল কোটিপতি লিগের। কিন্তু মরশুমের মাঝপথে লভনিথ সিসোদিয়ার চোট পাটীদারের ক্রিকেট ভাগ্য বদলে দেয়। পরিবর্ত ক্রিকেটার হিসেবে ফের রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলে জায়গা পান তিনি। ভুলের পুনরাবৃত্তি করেননি। এলিমিনেটর পর্বে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন পাটীদার। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ঝলমলে হাফ-সেঞ্চুরি। শুধু পায়ের তলার জমি শক্ত করা নয়, ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন দলের বিশ্বস্ত সৈনিক। তারপর উল্কার গতিতে উত্থান। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি ২০২৫ সালে বেঙ্গালুরুর অধিনায়কও নির্বাচিত হন তিনি।
মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে পাটীদার জানিয়েছেন, ‘এমন একটা ইনিংস খেলব স্বপ্নেও ভাবিনি। বিশেষ কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। তবে এই ধরনের ম্যাচে শরীরী ভাষাটা ফুটিয়ে তোলাও জরুরি। আমি যে শাসন করতে নেমেছি, সেটা বিপক্ষের বোলারদের বোঝানো দরকার ছিল। সেই লক্ষ্যে সফল। তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি। ফাইনাল সব সময় কঠিন। হাতে কয়েকটা দিন সময় পাব। ভুলভ্রান্তি শুধরে নেওয়ার জন্য এই সময়টাকে কাজে লাগাতে হবে। প্রশংসা প্রাপ্য আমাদের বোলারদের। এত সহজ জয়ের কারিগর তো ওরাও।’