সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে বছর এগারো আগে বাগনানে রেললাইনের উপর তৈরি হয়েছিল উড়ালপুল। তাতে বহু বাতিস্তম্ভ লাগানো হয়েছিল। সেই সময় আলোয় ঝলমল করত গোটা সেতু। এখন সন্ধ্যা নামলেই এই সেতুর সিংহভাগ ডুবে যায় অন্ধকারে। টিমটিম করে যে ক’টি আলো জ্বলে, তাতে গোটা উড়ালপুল আলোকিত হয় না। আসলে বেশিরভাগ আলোই খারাপ। যার জেরে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবি, বাগনানের এই উড়ালপুলে অবিলম্বে আলো লাগানোর ব্যবস্থা করা উচিত প্রশাসনের।
হাওড়া জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র গাদিয়াড়া। কয়েক বছর আগেও বাগনান হয়ে গাদিয়াড়ায় যেতে হলে বিভিন্ন যানবাহনকে বাগনান লেভেল ক্রসিং পার করতে হতো। একবার গেট পড়ে গেলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো দু’পাশের গাড়িকে। তাছাড়া রেললাইনের দু’ধারের বাসিন্দাদের এই ব্যস্ত লাইন পেরিয়েই নিত্য যাতায়াত করতে হতো। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা লেগেই থাকত। এই সমস্যার সমাধানে বাগনান স্টেশনের পাশে উড়ালপুল নির্মাণ করা হয়। ২০১৪ সালে এই উড়ালপুলের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় অসংখ্য বাতিস্তম্ভ দিয়ে আলোকিত করা হয় গোটা সেতুকে। কয়েক বছর ধরেই উড়ালপুলের এই আলোগুলি খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ, গাড়িচালকরা। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, উড়ালপুল তৈরি হওয়ার পর লেভেল ক্রসিংয়ের দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়েছে আম জনতা। তারপর থেকে সব গাড়িই উড়ালপুল হয়ে চলাচল করে। প্রথম দিকে সেতুর আলোগুলি জ্বললেও সময়ের সঙ্গে সেগুলি খারাপ হতে শুরু করে। ফলে সন্ধ্যার পর উড়ালপুলের বেশিরভাগ অংশই অন্ধকারে ডুবে যায়। ফলে রাতের দিকে যে কোনও দিন বড়সড় দুঘর্টনা ঘটতে পারে।
বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ সেন বলেন, আলো জ্বালাতে হলে বিপুল টাকা খরচ হয়। সেই টাকা জোগাড় করতে সমস্যা হওয়ায় এই বিপত্তি। সম্প্রতি পূর্তদপ্তর পঞ্চায়েত সমিতিকে একটি জমি দিয়েছে। সেই জমি বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করে যা আয় হবে, সেই টাকায় আলো জ্বালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র