Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শোলার চালচিত্রে উমাকে সাজিয়ে চমক শিল্পীদের

ঠিক কোন সাজে ঘরের মেয়ে উমাকে অনবদ্য লাগে তা নিয়ে বাঙালির পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ নেই।

শোলার চালচিত্রে উমাকে সাজিয়ে চমক শিল্পীদের
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: ঠিক কোন সাজে ঘরের মেয়ে উমাকে অনবদ্য লাগে তা নিয়ে বাঙালির পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ নেই। প্রাচীনকালে পটচিত্রের চালচিত্রে মা উমাকে দেখতেই বাঙালির ভক্তিভাব জেগে উঠত। এভাবেই বাংলায় পটচিত্র শিল্পে তৈরি হয়ে যায় একাধিক ঘরানা। কিন্তু কালের নিয়মে পটশিল্পীরা ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকেন। সেই জায়গায় দুর্গার চালচিত্র তৈরিতে ঠাঁই পায় প্রাচীন শোলাশিল্প। এবার সেই শোলা শিল্পকেই পথ দেখাচ্ছেন মঙ্গলকোটের বনকাপাশির শিল্পীরা। রাজ্য ছাড়িয়ে হিন্দি বলয়েও রাজ্যের শোলা শিল্পীদের কদর বাড়ছে। 

Advertisement

পটচিত্রের পরিবর্তে এখন মা দুর্গার চালচিত্র তৈরি হচ্ছে শোলার নানা মডেল দিয়ে। পটচিত্র শিল্পে ম দুর্গাকে নাকি ঠিক মানাচ্ছিল না। প্রাচীন যুগে দুর্গার যে সাজ তৈরি হতো শোলা দিয়ে, তা নিয়েও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হতে থাকে। মঙ্গলকোটের বনকাপাশির শোলাশিল্পীরা তাতে চোখধাঁধানো সাফল্য পেয়েছেন। কারণ এখানকার বেশ কয়েকজন শোলাশিল্পী এ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তাতে দেখা যায় যে, শোলাশিল্পের প্রাচীনত্বের সঙ্গে বর্তমান দুর্গার সাজের অনেক মিল রয়েছে। শোলার চালচিত্রের সঙ্গে দেবীর সাজপোশাকের মেলবন্ধন ঘটেছে। তাতেই কদর বেড়েছে বাঙালি সমাজে।  জনপ্রিয় হয়েছে সাবেকিয়ানা। সেই থেকে মা দুর্গার পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী, রাস সহ নানা উৎসবেও ঠাঁই পেয়েছে শোলার চালচিত্র। ফের নতুন করে বাংলার শোলাশিল্পে এসেছে জোয়ার।  
শোলা কেটেই তৈরি হচ্ছে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের আদি সৃষ্টির কাহিনি।  তারপর সেগুলিকে নিজেদের দক্ষ হাতে চালচিত্রের জায়গায় সাজিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। পটচিত্রের বদলে শোলার চালচিত্র তৈরির কাজ মঙ্গলকোটের বনকাপাশির শোলাশিল্পীরা এক যুগ আগেই শুরু করেন। তার ফসল হিসাবে প্রতিবছর পুজোর সময় বরাত আসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত সহ আসাম, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, মুম্বই থেকেও। এমনকি, উত্তরপ্রদেশ সহ হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলির প্রবাসী বাঙালিদেরও মন কেড়েছে শোলার চালচিত্র।  বনকাপাশির শোলাশিল্পী প্রসাদ ঘোষ বলেন, আগে পৌরাণিক কাহিনি সম্বলিত চালচিত্র শোভা পেত মা দুর্গার চালায়। এখন শোলা দিয়ে সেগুলি করা হচ্ছে। এই  পরীক্ষা-নিরীক্ষা আমার বাবা প্রয়াত লালমোহন ঘোষ ১৯৯১ সালেই শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে শোলার চালচিত্র বাঙালি সমাজে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এবার আমার চালচিত্র কোচবিহার, অসমের তিনসুকিয়া, বেঙ্গালুরু  পাড়ি দিচ্ছে। পুজোয় বরাত পেয়েছি ২৫ লক্ষ টাকার। এর মধ্যে শোলার থ্রি-ডি সাজও রয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ