সংবাদদাতা, ঝালদা: সারাবছরই ছৌ নাচের মুখোশ তৈরি করেন পুরুলিয়ার চড়িদা গ্রামের শিল্পীরা। তবে কালীপুজোয় সেইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি কাজ। মুখোশের পাশাপাশি এখন দিনরাত এক করে ছোট-বড় নানা আকারের কালীপ্রতিমা তৈরি করছেন চড়িদার এই শিল্পীরা। অর্ডার অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে তৎপরতা চলছে।
বাঘমুণ্ডি ব্লকের অযোধ্যা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত চড়িদা গ্রাম। ছৌ নাচের মুখোশ তৈরির জন্য এই গ্রাম পরিচিত। এখানকার শিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি মুখোশ রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু ছৌ মুখোশই নয়, মৃৎশিল্পেও নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন গ্রামের একাধিক শিল্পী। কালীপুজোর মরশুমে সেই প্রতিভারই প্রকাশ দেখা গেল। বছরের অন্য সময় মুখোশ তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকলেও পুজোর আগে প্রতিমা তৈরিতে মন দিয়েছেন শিল্পীরা।
শুধু নিজেদের গ্রামেই নয়, অর্ডার অনুযায়ী গ্রামের বাইরে গিয়েও কয়েকজন শিল্পী প্রতিমা তৈরির কাজে হাত লাগিয়েছেন। মুখোশ তৈরির নিয়মিত কাজের পাশাপাশি অনেকে প্রতিমার কাজ করছেন। সেকারণে চড়িদার শিল্পীদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই।
মৃৎশিল্পী রাজেশ সূত্রধর ও গৌতম সূত্রধর জানান, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ছোট-বড় বিভিন্ন মাপের কালীপ্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিমার অর্ডার আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। সেইমতো কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রতিমা তৈরি করে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই রাত জেগেও কাজ করতে হচ্ছে।
চড়িদার পরিচয় মূলত ছৌ মুখোশকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও গ্রামের শিল্পীরা এখন তাঁদের বহুমুখী শিল্পসত্তার পরিচয় দিচ্ছেন। এর ফলে তাঁদের আয়ও বেড়েছে। তাঁদের তৈরি প্রতিমা মণ্ডপে মণ্ডপে পৌঁছে
যাচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র



