Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

বাত ব্যথায়,হোমিওপ্যাথি

শীত পড়লে, ঠান্ডা-সর্দি লাগলে বাতের রোগীর ব্যথাও তীব্র হয়। সাধারণত মহিলারা ৪০ বছরের পর ও পুরুষরা ৫০ বছরের পর বয়সজনিত জয়েন্টের সমস্যায় ভোগেন।

বাত ব্যথায়,হোমিওপ্যাথি
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

পরামর্শে বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক চিকিত্‍সক ডাঃ প্রকাশ মল্লিক।

Advertisement

শীত পড়লে, ঠান্ডা-সর্দি লাগলে বাতের রোগীর ব্যথাও তীব্র হয়। সাধারণত মহিলারা ৪০ বছরের পর ও পুরুষরা ৫০ বছরের পর বয়সজনিত জয়েন্টের সমস্যায় ভোগেন। আমাদের দেশের পঞ্চাশোর্ধ্ব জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ ভাগ লোক ব্যথাজনিত সমস্যায় ভোগেন। বিশেষ করে যেসব জয়েন্ট শরীরের ওজন বহন করে ও অতিরিক্ত ব্যবহৃত হয়, যেমন: ঘাড়, কোমর, কাঁধ বা শোল্ডার জয়েন্ট ও হাঁটুব্যথার রোগী সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। বাতের ব্যথায় অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে ৫০ ভাগ হচ্ছে মেকানিক্যাল সমস্যার। মেকানিক্যাল সমস্যা বলতে মেরুদণ্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো বা আংশিক ছিঁড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তনকে বোঝায়। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে বয়সজনিত হাড় ও অস্থিসন্ধির ক্ষয় বা বৃদ্ধি,অটোইমিউন ডিজিজ, মাংসপেশির রোগ, শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের বৃদ্ধি ইত্যাদি।

চিকিত্‍সা না করালে রোগীর অঙ্গে বিকৃতি দেখা দিতে পারে। রোগী চলচ্ছক্তিহীন হয়ে পড়েন। তাই কষ্ট না পেয়ে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাঁরা বাতের ব্যথায় ভুগছেন, অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের  পরামর্শে ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সুস্থ থাকতে পারেন।

পাশাপাশি নিম্নলিখিত পরামর্শমাফিক চললেও বাতের ব্যথা অনেকাংশে লাঘব করা যায়। ব্যথা বেশি হলে সাত দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম নেবেন। ব্যথার জায়গায় গরম-ঠান্ডা সেক দেবেন ১০-১৫ মিনিট। বিছানায় শোওয়া ও ওঠার সময় যে কোনও একদিকে কাত হয়ে হাতের ওপর ভর দিয়ে শোবেন ও উঠবেন। মেরুদণ্ড ও ঘাড় নিচু করে কোনও কাজ করবেন না। নিচু জিনিস, যেমন পিঁড়ি, মোড়া বা ফ্লোরে না বসে চেয়ারে পিঠ সাপোর্ট দিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে বসবেন। ফোম ও জাজিমে না শুয়ে উঁচু, শক্ত, সমান বিছানায় ঘুমাবেন। ভারী ওজন বহন নিষেধ। দাঁড়িয়ে বা চেয়ারে বসে রান্না করার চেষ্টা করবেন। চিকিৎসকের নির্দেশমতো দেখানো ব্যায়াম নিয়মিত করবেন। ব্যথা বেড়ে গেলে ব্যায়াম বন্ধ রাখবেন। ডায়েট কন্ট্রোলের মাধ্যমে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।

বাতের সমস্যায় খুব ভালো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ আছে। উদাহরণ হিসেবে, রাসটক্স, ব্রায়োনিয়া, মেডেরিনাম, কলোসিন্থ প্রভৃতি ওষুধের নাম করা যায়। তবে রোগীরা নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ কিনে খাবেন না। কারণ হোমিওপ্যাথিক চিকিত্‍সা পদ্ধতিতে রোগ নয়, রোগীর চিকিত্‍সা হয়। প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে তাই তার চরিত্র ও জীবনযাপনের পদ্ধতি বুঝে ওষুধ দিতে হয়। তাতেই রোগী আরাম পান।

সম্পর্কিত সংবাদ