Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

চোখে বাত!

চোখে বাত!
  • ৮ মে, ২০২৫ ১৭:০৫
Prefer us on Google

হাঁটু-কোমরে বাতের কথা প্রায়ই শোনা যায়। তাই বলে চোখে বাত! এমনও হয়? বিস্তারিত জানালেন বিশেষজ্ঞ 
ডাঃ অনিন্দ্য কিশোর মজুমদার। 

Advertisement

 কী এই চোখের বাত?
শরীরের বাতের মতোই চোখের বাতও বহু প্রাচীন রোগ। ইউভিআইটিস বা চোখের বাত তুলনামূলকভাবে একটি বিরল অসুখ। এনিয়ে সচরাচর আলোচনা হয় না। তাই সেভাবে জনসচেতনতাও গড়ে ওঠেনি। চোখের রোগ ও তার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ের মধ্যে এটি একটু জটিল। তাই এই নির্দিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞও সারা দেশে তথা বিশ্বে অনেক কম। এনিয়ে চিকিৎসকদের একাংশের মধ্যেই তেমন সচেতনতা নেই। এককথায় বলতে গেলে রোগ-ব্যাধির জগতে চোখের বাত বরাবরই একটু কোণঠাসা। 
কাদের ক্ষেত্রে চোখের বাতে আক্রান্ত হওয়ার 
প্রবণতা বেশি?
মূলত ২৪-৪০ বছরের মধ্যে চোখের বাতে ভোগার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বয়স্কদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কখনও কোনও সার্জারির পর বা সংক্রমণ থেকে তাঁদের চোখে বাত হতে পারে। বাচ্চাদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কম। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। পাঁচ বছরের নীচে বা ৬০ বছরের উপরে যদি কারও চোখে বাত দেখা যায় তাহলে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে।কারণ এক্ষেত্রে এটি ক্যান্সারের মতো কোনও মারণব্যাধির  ইঙ্গিত হতে পারে।
চোখের বাতের লক্ষণ বা উপসর্গ কী কী?
এক্ষেত্রে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জল পড়া, ব্যাথা অনুভব, আলোর দিকে তাকাতে না পারা, চোখে কম দেখতে পাওয়া, অনেক সময় চোখের সামনে ভাসমান কিছু কালো মাছির মতো দেখা, ফোলা ভাব সহ একাধিক উপসর্গ রয়েছে।
চোখের বাতের কারণ?
সাধারণত শরীরের বাতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত চোখের বাত। আবার আলাদাও হতে পারে। শরীরে টিবি বা ওই জাতীয় কোনও সংক্রমণ থাকলে এই ধরনের বাত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। চোখের নিজস্ব একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে কোনও অংশে যদি ত্রুটি দেখা দেয় বা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলেও বাসা বাঁধতে পারে এই ধরনের বাত। এছাড়াও চোখে হঠাৎ কোনও আঘাতের জেরে বা অপারেশনের পর ইউভিআইটিস হতে পারে। অতীতে পরিবারের কারও একই সমস্যা থাকলে, সেক্ষেত্রে জিনগত কারণেও হতে পারে এই রোগ। 
কীভাবে নিরাময় সম্ভব?
বিশেষজ্ঞ দিয়ে চিকিৎসা করালেই ভালো।এক্ষেত্রে কয়েকটি পর্যায় রয়েছে।প্রথমে রোগীর সঙ্গে বসে বিস্তারিত কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে।চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় হিস্ট্রিং টেকিং।কতদিন ধরে কী কী সমস্যা হচ্ছে, শরীরে অন্য কোথাও কোনও বাত আছে কি না, পরিবারের কোনও সদস্যের এই সমস্যা ছিল কি না ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে খুঁটিনাটি জেনে নিতে হবে। এরপরের অংশ হল ক্লিনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন।অর্থাৎ এবার ভিশন টেস্ট, আই প্রেসার মেজারেমন্ট, রেটিনাল টেস্ট সহ একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পালা।পরের পর্যায়ে চোখের বাতের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। অর্থাৎ চোখের বাতটা ঠিক কোথায় হয়েছে। সামনের অংশ, মাঝের অংশ,পিছনের অংশে নাকি পুরো চোখজুড়ে। 
সবশেষে শুরু হয় মূল চিকিৎসা পদ্ধতি।চোখের সামনের অংশে বাত হলে স্টেরয়েড ড্রপ সহ  চোখের জন্য ব্যবহৃত সাধারণ কিছু ড্রপ  প্রয়োগ করা হয়। মাঝের অংশে হলে শুধু ড্রপে কাজ হয় না।ইঞ্জেকশন দিতে হয়।যদি পিছনের অংশে বা পুরো চোখজুড়ে বাত হয়, তাহলে আর ড্রপে কাজ হয় না। নির্দিষ্ট ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে হয়। প্রয়োজনে মেডিসিন স্পেশালিস্টদের পরামর্শ নিতে হয়।
এক্ষেত্রে শিশুদের চোখের বাতের চিকিৎসা করার সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ