Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আর্থিক অনিয়ম, দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় পদ্মের উপপ্রধান

আর্থিক অনিয়ম, দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় পদ্মের উপপ্রধান
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রাম-১ব্লকের গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানায় ডেপুটেশন দিলেন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যরা। বুধবার ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নমিতা গিরি সহ ছ’জন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য থানায় হাজির হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ওই পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস দাস। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আর্থিক অনিয়মে জড়িত বলে তাঁদের দাবি। নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে বেশকিছু প্রমাণ এদিন থানার আ‌ইসি-র হাতে তাঁরা তুলে দেন। দুর্নীতিতে ধৃত পঞ্চায়েতের সচিব নীলরতন দাস ও অভিযুক্ত এক ঠিকাদারের সঙ্গে প্রধান দীনবন্ধু মণ্ডলের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশটও জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রধান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনকে ফোন পে-র মাধ্যমে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিজেপির ওই পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
Advertisement
গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মোট ৫০লক্ষ টাকা তছরুপ হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট লেভেল অডিটে ওই তথ্য সামনে এসেছে। পঞ্চায়েতের সচিব নিজের অ্যাকাউন্টে ৩৫লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করেছেন। এছাড়াও একজন ঠিকাদারের অ্যাকাউন্টে আরও ১৫লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করেছেন। পরবর্তীতে ওই ঠিকাদারের অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে বলে অডিটে ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েতের সচিব নীলরতন দাস গ্রেপ্তার হয়ে শ্রীঘরে রয়েছে।
ওই আর্থিক দুর্নীতি সামনে আসার পর গোকুলনগর পঞ্চায়েতের কাজকর্ম একেবারে স্তব্ধ। দু’মাস ধরে পঞ্চায়েতের সাধারণ সভা, অর্থস্থায়ী সমিতির মিটিং বন্ধ। ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট(ডিএসসি) বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। যেকারণে সবধরনের পেমেন্ট আটকে গিয়েছে। ৫০লক্ষ টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে গায়েব করার সময় প্রতিটি লেনদেনে ওটিপি শেয়ার করেছেন প্রধান ও এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট। এই অবস্থায় টাকা আত্মসাতের দায় প্রধান কীভাবে এড়াতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপপ্রধান সহ বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য‌রা।
উপপ্রধান নমিতাদেবী বলেন, আমরা ‘চোরমুক্ত পঞ্চায়েত’ গড়ার ডাক দিয়ে ভোটে জিতেছি। ২০২৩সালে গোকুলনগরের মানুষ আমাদের বিপুল সমর্থন দিয়েছে। বিনিময়ে আমাদের পঞ্চায়েত এক বছরে ৫০লক্ষ টাকা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল। আমাদের দাবি, এই দুর্নীতির ঘটনায় যে বা যারা জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনও ব্যক্তি কিংবা দু’-তিনজনের অপকর্মের দায় গোটা বোর্ডের উপর পড়তে দেব না। সেই জন্য আমরা থানায় গিয়ে ওই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছি।
বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিসবাবু বলেন, প্রধানের সঙ্গে ধৃত পঞ্চায়েতের সচিব এবং অভিযুক্ত এক ঠিকাদারের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট পুলিসকে দিয়েছি। সেখানে প্রধান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনকে টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন। সেইসব নম্বর জোগাড় করে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছি। কোন উদ্দেশ্যে তাদের টাকা পাঠানো হয়েছে এবং সেই টাকা ঘুরপথে কার কাছে গিয়েছে, সেটা তদন্তসাপেক্ষ।
গোকুলনগরে প্রধান বলেন, গোটা বিষয়টি এখন বিচারাধীন। পুলিস ঘটনার তদন্ত করছে। তাই ওই স্ক্রিনশটের সঙ্গে আমার যোগ আছে কি না, সেটা নিয়ে এখনই কিছু মন্তব্য করব না। আমি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। আশা করি, সত্য ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ