Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিংহি পার্কে বস্তার অঞ্চলের শিল্পকলা, সোমনাথ মন্দির একডালিয়া এভারগ্রিনে

গুগল ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করা কিংবা ছবি দেখে কাল্পনিক নকশা এঁকে ফেলা— বিষয়টা শুধুমাত্র এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি কলকাতার নামকরা দুই দুর্গা পুজো কমিটি।

সিংহি পার্কে বস্তার অঞ্চলের শিল্পকলা, সোমনাথ মন্দির একডালিয়া এভারগ্রিনে
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: গুগল ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করা কিংবা ছবি দেখে কাল্পনিক নকশা এঁকে ফেলা— বিষয়টা শুধুমাত্র এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি কলকাতার নামকরা দুই দুর্গা পুজো কমিটি। একেবারে নিজের চোখে পর্যবেক্ষণ করে এবং হাতে-কলমে তথ্য সংগ্রহ করে সেটাই পুজো মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলার সংকল্প করেছে একডালিয়া এভারগ্রিন ও সিংহি পার্ক। গুজরাতের সোমনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে একডালিয়ায়। আর সেই সোমনাথ মন্দির দেখবার জন্য ক্লাব থেকে ডেকরেটারকে পাঠানো হয়েছিল গুজরাতে। তা দেখেই তিনি মণ্ডপের কাজে হাত দিয়েছেন। অন্যদিকে, ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের জীবনধারা, সেখানকার ডোকরা সহ অন্যান্য শিল্প কারুকার্য নিয়ে গবেষণা করেছেন শিল্পী। তাঁর সেই গবেষণার প্রাপ্ত মূলধনই এবার সিংহি পার্কে পুজোর ইউএসপি। 

Advertisement

একডালিয়া এভারগ্রিন ক্লাবের পুজো এবার ৮৪বছরে পা রেখেছে। গুজরাতের সোমনাথ মন্দিরের আদলে ১০৫ ফুট উচ্চতা এবং ৪১ ফুট চওড়া বিশিষ্ট মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। মহাদেব শিবের দ্বাদশ লিঙ্গের অবয়ব ফুটে উঠবে মণ্ডপের ভিতরে। চিরন্তন সাবেকিয়ানা বজায় রেখে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন শিল্পী সনাতন রুদ্র পাল। আর মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছে খেজুরির আশীর্বাদ ডেকরেটর্স। এআই প্রযুক্তিতে আলোর খেলা এবার বিশেষ শোভাবর্ধন করবে একডালিয়া এভারগ্রিন ক্লাব চত্বরে। বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য প্রবেশের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এই একডালিয়া ক্লাবের প্রাণপুরুষ ছিলেন বাংলার স্বনামধন্য রাজনীতিবিদ সুব্রত মুখেপাধ্যায়। তিনি যে পথ দেখিয়ে গিয়েছেন, তা অনুসরণ করেই পুজোকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন সুব্রত’র উত্তরসূরিরা। এখন ক্লাবের সভাপতি সুব্রতবাবুর স্ত্রী ছন্দবাণী মুখোপাধ্যায়। সুব্রতবাবুর দীর্ঘদিনের সঙ্গী তথা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মহাপাত্র বলেন, এর আগে আমরা জগন্নাথ মন্দির, মীনাক্ষী মন্দির, পশুপতিনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করেছি। এবার সোমনাথ মন্দির করা হয়েছে। আর সাবেকিয়ানাই আমাদের মূলধন। 
সিংহি পার্কের দুর্গাপুজো এবার ৮৫ বছরে। তাদের থিম ‘বস্তারীয়’। গোটা ভাবনায় অঙ্কিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিমা শিল্পী প্রদীপ রুদ্র পাল। আবহ সঙ্গীতে পণ্ডিত শুভেন চট্টোপাধ্যায়। ছত্তিশগড়ের বস্তারের শিল্প ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণায় এবার মণ্ডপের সাজসজ্জা। ছত্তিশগড়ের বস্তারের আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব শিল্পরীতি, কারুশিল্প এবং প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপনের মাধ্যমে যে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে, সেটাই পুজো প্রাঙ্গণে উপস্থাপনা করছে সিংহি পার্ক। বিশেষ করে ডোকরা শিল্পের কারুকাজ থাকবে পুজো মণ্ডপে। ধাতব বস্তু গলিয়ে কিংবা লোহা পিটিয়ে নানা ধরনের মূর্তি, পশু-পাখি, নকশা তৈরি করা হয়, সেটাই দর্শকদের চোখে পড়বে। এমনকি, দেবী প্রতিমার চালচিত্রে ডোকরার কাজের ঝলক লক্ষ‌্য করা যাবে। পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক রঙে মণ্ডপের শিল্পভাবনাকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা অভিজিৎ মজুমদার বলেন, মণ্ডপের উপরিভাগে আমরা বস্তার গ্রামের এক বাহ্যিক রেখাচিত্র দেখতে পাব যা আমাদের মনে করিয়ে দেবে ছত্তিশগড়ের পাহাড়ি উপত্যকা ও টিলার রূপরেখা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ