নয়াদিল্লি: অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে ১৮ বছরের কম বয়সি আটক পড়ুয়াদের। এবং একইসঙ্গে ধৃত প্রত্যেক আন্দোলনকারীকে। এদের কারও বিরুদ্ধে ‘দমনমূলক’ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অতীত রেকর্ড রয়েছে, তারাই শুধু ব্যতিক্রম। তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা থাকবে না পুলিশের। জেন জি আন্দোলনে নির্বিচারে ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে মঙ্গলবার স্পষ্ট ভাষায় এই নির্দেশই দিল সুপ্রিম কোর্ট। এনিয়ে কেন্দ্রের পাশাপাশি অসম, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কেরল সরকারের জবাবও তলব করল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। দেশজুড়ে বিতর্কের মুখে পড়ে অবশ্য বিহারের পর অসম সরকারও ঘোষণা করে দিয়েছে, সিজেপির প্রতিবাদী পড়ুয়াদের উপর থেকে সব মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এক পথে হেঁটেছে কলকাতাও। প্রতিবাদী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে ‘দমনমূলক’ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বললেও তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের কোনো নির্দেশ অবশ্য এদিন সুপ্রিম কোর্ট দেয়নি। ফলে রুষ্ট ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের দাবি, কোনো শর্ত আরোপ নয়, সর্বাগ্রে পড়ুয়াদের মুক্তি চাই। সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত যদি যুব সমাজের স্বার্থে কাজ করে, তবে আমরা এই ধরনের আদেশ বা রায়কে স্বাগত জানাই। তবে আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে। মুক্তি দিতে হবে আটক হওয়া প্রত্যেককেই। সাংবাদিক বৈঠকে সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিল, সেগুলি পূরণ করতে হবে তাদের। সুপ্রিম কোর্ট এখন দায়ের হওয়া এফআইআরগুলি প্রত্যাহার নিয়ে কোনো নির্দেশ দেয়নি। অথচ, সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনায় এমনটা বলা হয়নি। আমরা আশা করেছিলাম, সরকার সব আশ্বাস পূরণ করবে। সুপ্রিম কোর্টের আরোপিত শর্তগুলি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে রেখেছি, সরকারের দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পালন করা না হলে ফের প্রতিবাদের রাস্তায় নামা হবে।’ তাদের সাফ কথা, এদিন রাতের মধ্যে দাবি মানতে হবে। না হলে বুধবার থেকে ফের আন্দোলন। সিজেপির ‘মুখ’ অভিজিৎ দিপকেও বলেছেন, ‘পড়ুয়াদের খুঁজে খুঁজে যদি এভাবে সরকার হেনস্তা করে, ফল ভালো হবে না।’



