নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কিডনি বিক্রির তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সল্টলেকের যে যুবকের কিডনি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেই ব্যক্তির পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তেরও একটি কিডনি নেই! এই ঘটনায় আরও রহস্য তৈরি হয়েছে। মঙ্গল মণ্ডল নামে ওই যুবককে পঞ্জাবে নিয়ে যাওয়ার আগে সল্টলেকে তাঁর রক্ত পরীক্ষা এবং সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল। বড়ো ধরনের চক্র যুক্ত রয়েছে বলে অনুমান। মঙ্গলকে বিধাননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন রাজ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেওয়া হবে জানান মন্ত্রী। মঙ্গলের বাড়ি সল্টলেকে বিধাননগর দক্ষিণ থানার ত্রিনাথপল্লিতে। অভিযোগ, প্রভাস মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি পঞ্জাবের হাসপাতালে কাজ দেওয়ার নাম করে তাঁকে নিয়ে যায়। কিন্তু কাজের বদলে সেখানে একটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাঁর কিডনি বের করা হয়। বিক্রি করে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার মঙ্গলের বাবা বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ করেন। তারপর অভিযুক্ত প্রভাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা থানার হরিণডাঙায় তাঁর বাড়ি। কিন্তু সল্টলেকে ভাড়া নিয়ে থাকেন। মঙ্গলের সঙ্গে দেখা করার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনুমতি না দিয়েই জোর করে কিডনি নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। কথা বলে জানতে পারলাম ভালো কাজ এবং অনেক মাইনে দেবে বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিছু গরমিল আছে। প্রথমে লুধিয়ানার একটি হোটেলে রাখা হয়। এখান থেকে যাওয়ার আগে তাঁর ব্লাড টেস্ট এবং সিটি স্ক্যান করানো হয়েছিল। লুধিয়ানার হোটেল থেকে তাঁকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে হাউস কিপিংয়ের কাজ দেবে বলেছিল। চাকরির আগে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছিল। সেখানে ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর মঙ্গল ঘুমিয়ে পড়েন। উঠে দেখেন সারা শরীরে নল। পেটে কাটা দাগ। চারদিন পর ছুটি হলে বাড়ি ফিরে আসেন। তারপর অভিযোগ হয়। অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালে ইউএসজি করে দেখা গিয়েছে মঙ্গলের বাঁদিকের কিডনি নেই। চুরি? না স্বেচ্ছায় দান? এখনই বলা সম্ভব নয়। যে ধরা পড়েছে, তারও একটি কিডনি নেই। রাজ্যে কিডনি পাচারের চক্র আছে। আগেও সামনে এসেছে। রক্তের সম্পর্ক নেই এমন ডোনার বন্ধ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেব। পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



