নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাবার উপর অনেক আগে থেকেই রাগ পুষে রেখেছিল হুমায়ুন কবীর। বিভিন্ন কারণ নিয়ে তার সঙ্গে মতানৈক্য তৈরি হয়েছিল। এমনকী, সে বিয়ে করতেও রাজি ছিল না। বাবা তাকে বিয়ে করার জন্য বারবার বোঝাতে থাকায় সে ক্ষুব্ধ হয়। বিয়ে করলেও বেশিদিন সম্পর্ক টেকেনি। এছাড়া সে বাবাকে গরিবদের সবকিছু দান করে দেওয়ার জন্য বলত। তার কথা না শোনায় সে তার বাবাকে বেশ কয়েকবার হুমকি দিয়েছিল। একাধিকবার হেনস্তাও করে। মেমারির কাশিয়ারার হুমায়ুন পুলিসকে জেরায় জানিয়েছে, বাবা তার উপর বিভিন্ন বিষয় চাপিয়ে দিলেও মা বাধা দিত না। সেই কারণে দু’জনের উপরই তার ক্ষোভ তৈরি হয়। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বাবা মোস্তাফিজুর রহমান এবং মমতাজ পারভিনকে তার আরও নৃশংসভাবে খুনের পরিকল্পনা করেছিল। বাড়িতে থাকা কুড়ুল এবং হাঁসুয়া সে নিজের হেফাজতে রেখেছিল। কুড়ুল দিয়ে তাদের কুপিয়ে খুন করার পরিকল্পনা ছিল। পরে সে সিদ্ধান্ত বদল করে। অনলাইনে ছুরি কিনে বাবা এবং মায়ের গলার নলি কাটে। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, জেরার সময়ও সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। পুলিস আধিকারিকদেরও সে হেনস্তা করে। আপতত সে গ্রেপ্তার হয়ে বনগাঁয় রয়েছে। মেমারি থানার পুলিস তাকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে। সে জেরায় একাধিকবার বাবা এবং মাকে খুনের কথা স্বীকার করেছে। তারমধ্যে কোনও আফশোস নেই। জেরার সময় কখনও সে চিৎকার করে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করছে, আবার কখনও চুপ হয়ে বসে থাকছে। নিজের খেয়ালে বিরবির করছে। কোনও কোনও সময় তার কথা শুনে আধিকারিকরাও অবাক হয়ে যাচ্ছেন। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে সে বেশি কথা বলছে। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, হুমায়ুন পরিকল্পনা মাফিক খুন করলেও বেশকিছু প্রমাণ সে ঘটনাস্থলে রেখে গিয়েছে। তার পায়ের ছাপ ঘরের মধ্যে রয়েছে। তাজা রক্তে সে পা দিয়েছিল। খুন করার পর সে বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছিল। সিআইডি সেখান থেকে আঙুলের ছাপের নমুনা সংগ্রহ করেছে।



