নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ফের এক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক তথা হুগলি জেলার সভাপতি অসিত মজুমদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করল। মঙ্গলবার কলকাতায় সভার প্রাক্কালে প্রাক্তন বিধায়ককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। চুঁচুড়ার বাসিন্দা এক মহিলার অভিযোগে অসিতকে ধরা হয়েছে। যদিও ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। চর্চা শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুগামী তৃণমূলেও। দলের একাংশের দাবি, ঝাঁকে ঝাঁকে নেতা যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা’র বিরোধিতায় মুখ খুলেছেন, তখন অসিত নেত্রীর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি সম্প্রতি মমতা অনুগত শিবিরের সভাপতি হয়ে কাজও শুরু করেছিলেন। তাতেই তিনি শাসক শিবিরের রোষানলে পড়ে থাকতে পারেন। এদিনই অবশ্য পাঁচ হাজার টাকার ব্যক্তিগত জামিনে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে ডিমবৃষ্টি ও আক্রমণের প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করেছিলেন অসিত ও তাঁর অনুগামীরা। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যে পালাবদলের পরে প্রথমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল। এবার নতুন একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এনিয়ে এদিন অসিতবাবু অবশ্য রাজনৈতিক মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, আমার কপাল খারাপ। বাকিটা আদালতে দেখা যাবে। চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ জানিয়েছে, চুঁচুড়া থানার হরগৌরীতলার বাসিন্দা জ্যোৎস্না হাজরার অভিযোগের ভিত্তিতে অসিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মহিলা ২০১৩ সালে একটি আবাসন প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনা জমা দিয়েছিলেন। তখন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে ক্ষমতা ব্যবহার করে ওই মহিলাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আবাসনের একটি গ্যারাজ এক ব্যক্তির নামে দানপত্র করে দিতে বাধ্য করাতে ভূমিকা নিয়েছিলেন অসিত। পাশাপাশি, ওই মামলায় চুঁচুড়া পুরসভার তদানীন্তন চেয়ারম্যান গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা আছে বলেও জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, হুগলির চুঁচুড়া পুরসভায় তৃণমূলের বোর্ড গড়তে চেয়ে সম্প্রতি গৌরীবাবু সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। যদিও গোটা ঘটনায় বিজেপি’র ভূমিকা বা শাসকদল হিসাবে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন দলের হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহ, সম্পত্তি তৈরি তৃণমূল নেতাদের নেশা হয়ে গিয়েছিল। আইন তার নিজের পথে চলছে। সেখানে বিজেপি’র ভূমিকা খোঁজা অর্থহীন। নিজস্ব চিত্র